Tuesday, October 27, 2026
31 C
Kolkata

SIR বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা, বাংলায় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার দায় ঝেড়ে সিইও দফতরের দিকে আঙুল কমিশনের!

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকায় আগে থেকে থাকা নাম বাদ দেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর আবেদন জানিয়েছিল বলে দাবি উঠেছে। তবে সেই প্রস্তাব কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সামনে আলোচনার জন্য তোলা হয়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর নিয়ে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কোনও মতবিরোধ ছিল না।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার জবাবে এই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল ওই আবেদনে। কমিশনের দাবি, এই প্রক্রিয়া নিয়ে জারি করা তিনটি বিজ্ঞপ্তিই সব সদস্যের সম্মতিতে প্রকাশ করা হয়েছিল। একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আবেদনটি করা হয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু সংবাদপত্রের ওই প্রতিবেদনে অন্য তথ্য উঠে এসেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রায় ১০ মাসে ১৪ বার চিঠি লিখেছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিগুলিতে কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যদিও নির্বাচন কমিশন এই ঘটনাকে আনুষ্ঠানিক মতবিরোধ হিসেবে মানতে নারাজ।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকা নিয়ে একাধিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বাদ পড়া নামের মধ্যে প্রায় ৩২ লক্ষ নাম পরে তালিকায় ফিরেছিল। এর মধ্যে ১৬ লক্ষ নামের বিরুদ্ধে আবার আপত্তি জানিয়ে ট্রাইবুনালে আবেদন করে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে সুপ্রিম কোর্টকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।

ফর্ম-৬ নিয়েও হলফনামায় নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে কমিশন। ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার এই ফর্মে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কমিশনের যুক্তি, নতুন তথ্য চাওয়াকে সরাসরি ফর্মের সংশোধন বলা যায় না। তবে প্রতিবাদ বাড়তে থাকায় ওই পরিবর্তন আপাতত প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ভোটার তালিকায় নামের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্যের মিল না থাকায় যাঁদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের শুনানির নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে বুথ স্তরের আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রত্যেককে সরাসরি শুনানিতে হাজির হতে হবে না।

এসআইআর নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পরও বিরোধীদের আন্দোলন থামেনি। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকা সিদ্ধান্ত আবারও কার্যকর হতে পারে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে।

Hot this week

Topics

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলে বিক্ষোভ, ‘বিবি-কে ভোট দিন’ বলে প্রচারে নামলেন ট্রাম্প

ইজ়রায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে...

Related Articles

Popular Categories