কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে ভোটের আগে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে রয়েছে তৃণমূলের একাংশ। পাঁচ বছর আগে যে প্রাক্তন কাউন্সিলররা দলের টিকিট পাওয়ার জন্য নেতাদের দরজায় দরজায় ঘুরতেন, তাঁদের অনেকেই এবার আর ভোটে দাঁড়াতে চাইছেন না। কেউ আর্থিক সমস্যার কথা বলছেন, কেউ আবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আবার কয়েকজনের বিজেপির টিকিটে লড়ার আগ্রহ রয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।২০২১ সালের কলকাতা পুর নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন ১৩৭ জন কাউন্সিলর। তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৭ জনেরও কম মমতা শিবিরের হয়ে ফের ভোটে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে খবর। অর্থাৎ, প্রাক্তন কাউন্সিলরদের বড় অংশই আপাতত নির্বাচনের ময়দান থেকে দূরে থাকতে চাইছেন।তৃণমূলের একাংশের মতে, আগের মতো দলের তরফে প্রার্থীদের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে নির্বাচনে নামতে হলে নিজেদের পকেটের টাকাতেই প্রচার ও সাংগঠনিক কাজ সামলাতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়েও অনেকে চিন্তিত। তাঁদের আশঙ্কা, বিজেপির শাসনে বিরোধী দলের প্রার্থী হলে হামলা কিংবা পুলিশের হয়রানির মুখে পড়তে হতে পারে।মমতাপন্থী তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, প্রাক্তন কাউন্সিলরদের একাংশ ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে বিজেপির টিকিট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকে ভোটে দাঁড়াতে চাইছেন না। স্বপন সমাদ্দারও জানিয়েছেন, নিজের এবং ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে নামার পরিকল্পনা নেই তাঁর।তৃণমূলের এই অনিশ্চয়তার বিপরীতে বিজেপির শিবিরে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ বেশ চোখে পড়ার মতো। কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডের জন্য পাঁচ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। চিকিৎসক, আইনজীবী-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষও টিকিটের দৌড়ে রয়েছেন। বিজেপির দাবি, অন্তত ১৮০টি ওয়ার্ডে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।এদিকে, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমের নির্বাচনে লড়া নিয়েও এখনও কোনও স্পষ্ট ছবি নেই। মহিলা সংরক্ষণের কারণে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে অতীন ঘোষের প্রার্থীপদও অনিশ্চিত।অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের সন্দীপন সাহা জানিয়েছেন, ২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেবে তাঁদের দল। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের এই শিবিরে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে।সব মিলিয়ে কলকাতা পুরভোটের আগে তৃণমূলের পুরনো সংগঠন কতটা অটুট থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রাক্তন কাউন্সিলরদের কতজন শেষ পর্যন্ত মমতার পাশে থাকবেন, আর কতজন বিজেপি বা অন্য শিবিরে নাম লেখাবেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
কলকাতা পুরভোটের আগে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের একাংশের অনীহা, বিজেপির টিকিট পেতে তৎপর অনেকেই!
Popular Categories

