বাজেট অধিবেশনে মাদ্রাসা শিক্ষা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়ন সংক্রান্ত বরাদ্দ অর্থকে ঘিরে শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অন্তর্বর্তী বাজেটের উপর আলোচনার সময় আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তার বক্তব্যে মুসলিম সমাজ ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক ইঙ্গিত থাকায় বিরোধী শিবির এবং সংখ্যালঘু সংগঠনগুলি কড়া সমালোচনা শুরু করে।
এই মন্তব্যের জবাবে সরব হন জমিয়তে উলামায়ে বাংলার রাজ্য সম্পাদক এবং মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতির মুখপাত্র সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন। তিনি জানান, মাদ্রাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার জায়গা নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে নৈতিকতা, সাধারণ পাঠ্যক্রম ও সামাজিক মূল্যবোধের পাঠ দেওয়া হয়। তার দাবি, বহু কৃতী ছাত্রছাত্রী এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষালাভ করে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাজ্যের অনেক সরকারি স্বীকৃত মাদ্রাসায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা কাজ করছেন এবং মুসলিম ও অমুসলিম ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করছে। এখানকার পাঠ্যসূচি রাজ্যের মূল শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আলাদা করে সন্দেহের চোখে দেখার কোনও কারণ নেই বলেই তার মত।
সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন মন্তব্য করা হচ্ছে, যা সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে। তিনি এই ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সচেতন নাগরিকদের একযোগে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার ডাক দেন। তার কথায়, বাংলার ঐতিহ্য সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের, তাই বিভেদের রাজনীতি কখনও স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারবে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর সংখ্যালঘু মহলেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে সংযম ও দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখার দাবি উঠেছে।


