আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনও চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে এই রিপোর্ট পেশ করার কথা থাকলেও, অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই ঘটনার তদন্ত শেষ করতে তদন্তকারীদের আরও অন্তত দু’মাস সময় লাগবে। তবে ‘এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ (AAIB) আশ্বস্ত করেছে যে, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং কোনও তথ্য গোপন রাখা হবে না। ২৬০ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই বিপর্যয়টিকে গত এক দশকের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণের নিয়ম অনুসারে, এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট না মিললে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দিতে হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির ইঞ্জিনের ফরেন্সিক পরীক্ষা এখনও পুরোপুরি শেষ না হওয়াতেই এই দেরি। মে মাসে তদন্তকারীদের একটি বিশেষ দল এই সংক্রান্ত পরীক্ষার জন্য ফ্রান্সেও গিয়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে ককপিটের ‘ভয়েস রেকর্ডার’ থেকে পাইলটদের শেষ মুহূর্তের যে কথোপকথন সামনে এসেছে, তা ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। জানা গিয়েছে, বিমানটি আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার ঠিক পরপরই সেটির ইঞ্জিনে আচমকা জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কোনও প্রযুক্তিগত কারণে বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণের প্রধান সুইচগুলি হঠাৎ করেই ‘রান’ মোড থেকে ‘কাট অফ’ মোডে চলে গিয়েছিল। এর ফলে উড়ানের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গতি হারিয়ে বিমানটি ভেঙে পড়ে।
এদিকে দুর্ঘটনার এক বছর কেটে গেলেও নিহতদের বহু পরিবার এখনও ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করতে রাজি হননি। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট না দেখে তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। যদি বিমান সংস্থার কোনও চরম গাফিলতি বা ত্রুটি সামনে আসে, তবে ক্ষতিপূরণ না নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ করার পথ খোলা রাখতেই অনেকে টাকা নিতে অস্বীকার করেছেন। অবশ্য বিমান সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ নেওয়ার জন্য কোনও পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।


