কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী ভগীরথ চৌধরীর কৃষি ভর্তুকি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড় এসেছে। নিজের কৃষিজমিতে শসা চাষের জন্য পাওয়া প্রায় ৯৯ লক্ষ টাকার সরকারি ভর্তুকি তিনি ফেরত দিয়েছেন বলে লোকসভায় জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও একই সঙ্গে সরকার স্পষ্ট করেছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনও ব্যক্তি এই ধরনের প্রকল্পে আবেদন করলে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে আলাদা কোনও নিয়ম বর্তমানে কার্যকর নেই।
কৃষি মন্ত্রকের অধীন জাতীয় উদ্যানপালন পর্ষদের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন সবজি ও ফুলের চাষে উৎসাহ দিতে এই প্রকল্প চালু রয়েছে। ক্যাপসিকাম, শসা, টমেটো, গোলাপ, অ্যান্থুরিয়াম ও অর্কিডের মতো ফসলের জন্য চাষের খরচের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়। এক একটি পরিবার সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।
রাজস্থানের অজমেঢ়ের সাংসদ ভগীরথ চৌধরী জাতীয় উদ্যানপালন পর্ষদের উপাধ্যক্ষও। তাঁর প্রায় ১৬ হাজার ৫৯২ বর্গমিটার জমিতে শসা চাষের খামার রয়েছে। গত বছর এই প্রকল্পের আওতায় যেসব খামার ভর্তুকি পেয়েছিল, তার মধ্যে তাঁর খামারও ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তোলে, নিজের মন্ত্রকের প্রকল্প থেকে মন্ত্রীর আর্থিক সুবিধা নেওয়া কতটা নৈতিক। যদিও শুরু থেকেই ভগীরথ দাবি করেছিলেন, সমস্ত নিয়ম মেনেই তিনি আবেদন করেছিলেন এবং কোনও তথ্য গোপন করেননি।
এই বিষয়টি নিয়ে লোকসভায় প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানতে চান, কোন ভিত্তিতে এই ধরনের ভর্তুকির আবেদন অনুমোদিত হয় এবং সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে আলাদা কোনও ব্যবস্থা রয়েছে কি না। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সাংসদ বা তাঁদের পরিবারের সদস্য এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন কি না, সেই তথ্যও জানতে চান তিনি।
এর জবাবে কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর লিখিতভাবে জানান, ভগীরথ চৌধরী ইতিমধ্যেই ভর্তুকির পুরো অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে ফেরত দিয়েছেন। ব্যাঙ্ককেও সেই অর্থ জাতীয় উদ্যানপালন পর্ষদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার জানায়, রাজস্থানের সিরোহির বিজেপি সাংসদ লুম্বারামও এই প্রকল্পের অধীনে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।
সরকারের বক্তব্য, বর্তমানে ভর্তুকির আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে গ্রহণ ও যাচাই করা হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই আবেদন বিবেচনা করা হয় এবং সরকারি পদে থাকা আবেদনকারীদের জন্য আলাদা কোনও নিষেধাজ্ঞা বা স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত বিশেষ বিধান এখনও চালু হয়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


