যুক্তরাষ্ট্রে করা এক নতুন জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে, গাজা যুদ্ধে ভূমিকার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার পক্ষে মত দিচ্ছেন অনেক মার্কিন নাগরিক। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, সুযোগ এলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরোয়ানা কার্যকর করা উচিত।
দ্য ইকোনমিস্ট এবং ইউগভ যৌথভাবে এই সমীক্ষা চালায়। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে যান, তাহলে আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা উচিত কি না। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৯ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ২৭ শতাংশ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। বাকি ২৩ শতাংশ জানান, এই বিষয়ে তাঁদের নির্দিষ্ট কোনও মত নেই।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগ, গাজা যুদ্ধ চলাকালীন খাদ্য সরবরাহকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে হামলা, হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। আইসিসির দাবি, এই ঘটনাগুলির জন্য নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তদন্তের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।
এই বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মন্তব্যকে ঘিরে। কয়েক মাস আগে তিনি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পরে নিজের অবস্থান বদলে তিনি জানান, নিউ ইয়র্ক শহরের প্রশাসনের হাতে এমন আইনি ক্ষমতা নেই। তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আইসিসির সদস্য হয়ে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার আহ্বান জানান।
তবে বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল—দুই দেশই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতিষ্ঠাতা চুক্তিতে অনুমোদন দেয়নি। ফলে তারা আদালতের বাধ্যতামূলক বিচারিক ক্ষমতার আওতায় নিজেদের স্বীকার করে না। যদিও আইসিসি দাবি করে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত ঘটনাগুলির ওপর তাদের বিচারিক অধিকার রয়েছে।
একই সমীক্ষায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের ৪৭ শতাংশ মনে করেন, গাজায় যুদ্ধের সময় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওঠা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। ২৪ শতাংশ এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। আর ২৯ শতাংশ কোনও নির্দিষ্ট মত প্রকাশ করেননি।
গত ২৫ থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়। এতে মোট ১,৫৫৯ জন অংশ নেন। সমীক্ষার ফলাফলে প্রায় ৩.৩ শতাংশ পর্যন্ত ত্রুটির সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে। এই সমীক্ষার ফল প্রকাশের পর গাজা যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।


