বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির শনিবার যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, তার পরেই তিনি দাবি করেন, অসদুদ্দিন ওয়েইসির এআইএমআইএম তার সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী। কিন্তু রবিবারই এআইএমআইএমের মুখপাত্র সাইয়দ আসিম ওয়াকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে কোনও ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।
ওয়াকার অভিযোগ করেন, হুমায়ূন কবীর এক সময় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং বিজেপি করতেন। তার দাবি, “ওয়েইসি এমন কারও পাশে দাঁড়ান না, যারা শান্তি নষ্ট করতে চায়। বাংলার মুসলিমরা ভালো ভাবেই জানেন কবীর কার নির্দেশে চলছেন।” এদিকে কবীর বলেন, তিনি এই সব মন্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার কথায়, “ওয়েইসিকে তো অনেকেই বিজেপির লোক বলে। এই সব রাজনীতির অংশ। প্রয়োজন হলে ওনাদেরই আমার দরকার হবে, আমার নয়।”
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দুই পক্ষকেই কটাক্ষ করে বলেন, উন্নয়ন কি তাদের কোনও আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে পড়ে এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাজ কি তারা করতে পারবেন।
এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন জানা যায়—কবীর নতুন দল গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিন্তু তবুও বিধায়ক পদ ছাড়বেন না। তিনি জানান, এলাকার মানুষ তার কাছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট নিয়ে আসেন, তাই পদে থাকা প্রয়োজন।
বেলডাঙার এই জায়গা চলতি বছরের এপ্রিলে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা দেখা গেছিল। এখন একই স্থানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে আবার উত্তেজনা। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় বিজেপি নেতা সাকারভ সরকার রাম মন্দিরের আদলে একটি মন্দির তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদে মুসলিম জনসংখ্যা রাজ্যের সর্বাধিক ৬৬ শতাংশ। কবীর দাবি করছেন, তার নতুন দল অন্তত ১৩৫টি আসনে লড়বে এবং মুসলিম প্রার্থীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে। তবে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এই পরিস্থিতিকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপজ্জনক উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন।


