দেশে গরু ও গো-মাংস নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির একাংশ যেখানে গোরক্ষার প্রশ্নে সরব, সেখানে বাস্তবে ভারতের গরুর মাংস রপ্তানি শিল্প গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের অন্যতম বড় মহিষের মাংস রপ্তানিকারক আলানা গ্রুপ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিজেপিকে ৩০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। একই সময়ে ভারতের বিফ রপ্তানি ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ।
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে নরেন্দ্র মোদি ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে ‘পিঙ্ক রেভলিউশন’-এর অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু তার সরকার গঠনের পর মাংস শিল্পের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নতুন রূপ নেয়। উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে আলানা গ্রুপের বড় ইউনিট থাকলেও, সেখানে গোরক্ষা বাহিনীর হামলার অভিযোগে ব্যবসা কিছু সময়ের জন্য চাপে পড়ে। ২০১৯ সালে আয়কর দফতর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত শতাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় এবং প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ তোলে।
এই সময় থেকেই সংস্থাটি নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক অনুদান দিতে শুরু করে। ২০১৯ সালে তারা ৭ কোটি টাকার বন্ড কেনে, যার মধ্যে ৫ কোটি যায় শিবসেনা ও ২ কোটি বিজেপির কাছে। তার আগে ২০১৩-১৪ সালেও বিজেপিকে সরাসরি ২ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালেও তাদের একটি সহযোগী সংস্থা ২ কোটি টাকা দেয়। তবে ২০২৪-২৫ সালে অনুদানের পরিমাণ বেড়ে ৩০ কোটিতে পৌঁছায়। চারটি সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালে চীনের কড়াকড়ির ফলে রপ্তানি কমে যায়। পরে মিশর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে চাহিদা বাড়ায় রপ্তানি ফের বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে মিশর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। ২০২৪-২৫ সালে আলানাসন্স প্রাইভেট লিমিটেডের আয় ১০,৩২০ কোটিতে পৌঁছেছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছেন, কর ব্যবস্থার সরলীকরণ ও বাণিজ্য চুক্তির ফলে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত হয়েছে। সরকারের বাণিজ্য নীতির ফলেই এই বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলেও তাদের দাবি। রাজনৈতিক বক্তব্যে গোরক্ষার কথা জোরাল হলেও, বাস্তবে রপ্তানি শিল্পের সম্প্রসারণ সমান্তরালভাবেই এগিয়েছে, এই ঘটনায় সেই চিত্র তুলে ধরছে।


