উত্তরপ্রদেশে প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। আদালত বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে এখনও অভিযোগ উঠলেই বাড়িঘর ভাঙার প্রবণতা বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা এই বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেন।বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি সিদ্ধার্থ নন্দনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, অনেক ক্ষেত্রে কোনও অপরাধের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই দ্রুত নোটিস দিয়ে বাড়ি বা দোকান ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। নাগরিকদের জীবন ও সমতার অধিকার কি এতে লঙ্ঘিত হচ্ছে না , এমন কথায় জানায় আদালত। সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা নিয়ে আদালত বিশেষ ভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে।এই মন্তব্য করা হয় ফইমুদ্দিন ও তার পরিবারের একটি মামলার শুনানির সময়। তাদের আত্মীয় আফান খানের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় এফআইআর হয়েছে। যদিও মামলায় তাদের নাম নেই, তবু অভিযোগ, পুলিশ ও কিছু লোক মিলে তাদের বাড়ি, লজ ও করাতকল ভাঙার জন্য চিহ্নিত করেছে। ইতিমধ্যে লজ ও করাতকল সিল করে দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন।রাজ্য সরকার জানায়, আবেদনটি আগে করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কাউকে না শুনে ভাঙা হবে না বলেও মৌখিক আশ্বাস দেয় প্রশাসন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কারও সম্পত্তি ভাঙা যাবে না। অন্তত ১৫ দিনের নোটিস, ব্যক্তিগত শুনানি ও লিখিত কারণ দেখাতে হবে। তবেই ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। তবে এই নির্দেশের পরেও রাজ্যে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ চলতে থাকায় আদালত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মানুষের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসনের উপর আঘাত হানে।
Popular Categories


