নিউইয়র্কে সর্বপ্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক নেতা জোহারান মামদানি নিউইয়র্কের নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর মহারাষ্ট্রের বিজেপি সভাপতি অমিত সতম এক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান।
সামাজিক মাধ্যমে সতম লেখেন, “যেভাবে আন্তর্জাতিক শহরগুলির রঙ বদলাচ্ছে, মেয়রদের পদবী দেখে মনে হচ্ছে মহারাষ্ট্রেও ভোট জিহাদ চলছে। সতর্ক থাকা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “মহারাষ্ট্র কোনও ‘খান’কে মেয়র হতে দেওয়া হবে না। মহারাষ্ট্রের জনগণদের জেগে উঠতে হবে।” তার এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এনসিপি-র মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডে এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেন, “অমিতজি, শহরের রঙ বদলায়নি, বদলেছে আপনার রাজনীতি।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “শিবাজির বাহিনীতে আফজল খানের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন সিদ্দি ইব্রাহিম খান ও দৌলত খান। ঘৃণার রাজনীতি মহারাষ্ট্রে বরদাস্ত করা হবে না।” অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেতা সাচিন সাওয়ান্ত বলেন, “মহারাষ্ট্র আজ দুর্ভোগে জর্জরিত। মানুষ বাঁচছে না, টিকে আছে। নর্দমায় পড়ে মৃত্যু, ট্রেনে দুর্ঘটনা, ময়লার স্তূপ, ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার প্রকোপে এই শহর ডুবে যাচ্ছে অব্যবস্থাপনায়।” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি করছে।
সাওয়ান্ত আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজেই একসময় বলেছিলেন, যেদিন আমি হিন্দু-মুসলিম ভাগ করব, সেদিন জনজীবনে থাকার যোগ্য নই। যদি তিনিই তা না মানেন, তাহলে মহারাষ্ট্রে বিজেপি সভাপতির কাছে এমন মন্তব্য কীভাবে মানানসই?”
অন্যদিকে, মামদানি তার বিজয় ভাষণে বলেন, “আমি তরুণ, আমি মুসলিম, আমি গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী, এবং আমি এ নিয়ে কোনও লজ্জা পাই না।” তার নির্বাচনী প্রচার থেকেই ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণ চলছিল।


