কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) কলকাতায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভুল করে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বাঙালি মনীষীদের কিছু নাম ভুল উল্লেখ করেন। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালির অবদান নিয়ে কথা বলার সময় তিনি জনপ্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিপ্লবী শচীন্দ্রনাথ সান্যাল—দুইজনের নাম গুলিয়ে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যায়’ বলে উচ্চারণ করেন। এই ভুলটি শোনা মাত্রই তা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিতর্ক তৈরি হয়।
অমিত শাহের বক্তব্যে তিনি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু ও বাঘাযতীনসহ বিভিন্ন বাঙালি নেতার নামের সঙ্গে ভুল বলে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যায়’ নামটি উচ্চারণ করেন। এই ভুলের কারণে রাজ্য রাজনীতিতে আবারও সংস্কৃতি ও ইতিহাস নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার পরে তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কটাক্ষ করে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শচীন্দ্রনাথ সান্যাল—দু’জনই আলাদা আলাদা মহান ব্যক্তি। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই নাম ভুল বলে ইতিহাস বিকৃত করেছেন।
এছাড়াও তিনি বলেন, “এভাবে আমাদের মনীষীদের অপমান করবেন না। আগে একটু পড়াশোনা করে আসুন।” রাজনৈতিক মহল থেকে আরও প্রশ্ন উঠছে—বাঙালি সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানার প্রতি বিজেপির আদৌ কী কোনও প্রস্তুতি আছে? তারা দাবি করেন, এই ভুল ত্রুটিই প্রমাণ করে কেন্দ্রীয় নেতারা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না।
এই নামে বিভ্রাট ও তর্ক রাজনৈতিক মহলে ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। অনেক মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করছেন, কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শচীন্দ্রনাথ সান্যাল—দুইজনই ভারতীয় ইতিহাসে দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।


