বিহারে বিধান পরিষদের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) বিধায়ক অনন্ত সিং। এক সময় নীতীশ কুমারকে রাজনৈতিকভাবে সাহায্য করতে তিনি ন’জনকে খুন করিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মোকামার এই বিধায়ক। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিহারের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। পরে অবশ্য নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে আগের দাবি থেকে সরে আসেন তিনি।সম্প্রতি দলের প্রার্থী বাছাই নিয়ে অনন্ত সিংয়ের অসন্তোষ সামনে এসেছিল। বিধান পরিষদের নির্বাচনে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নীরজ কুমারকে জেডিইউ মনোনয়ন দেওয়ায় দলের নেতৃত্বের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই নিজের পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে অনন্ত সিং দাবি করেন, নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে তিনি এক সময় বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। এমনকি নীতীশকে সাহায্য করার জন্য ন’জনকে খুন করানোর কথাও বলেন তিনি।এই মন্তব্য সামনে আসার পরেই বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) শাসক শিবিরকে আক্রমণ করে। তাদের বক্তব্য, বিহারে দীর্ঘদিনের শাসনকালে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। অনন্ত সিংয়ের বক্তব্যকে সামনে রেখে নীতীশ কুমারের নেতৃত্ব এবং সরকারের কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। তবে অনন্ত সিংয়ের দাবি নিয়ে কোনও স্বাধীন প্রমাণের কথা এই বক্তব্যে উঠে আসেনি।বিতর্ক বাড়তে থাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় জেডিইউ। দলের জাতীয় মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন প্রসাদ এবং অন্য নেতারা জানান, অনন্ত সিংয়ের এই মন্তব্যকে দলের বক্তব্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁদের মতে, এমন কথাকে অযথা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দলের তরফে এই অবস্থান নেওয়ার পর অনন্ত সিংও নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেন।পরে তিনি দাবি করেন, তাঁর কথার অর্থ ভুলভাবে বোঝানো হয়েছে। অনন্ত সিংয়ের নতুন বক্তব্য অনুযায়ী, লালুপ্রসাদ যাদবের সরকারের সময় তাঁর ন’জন সহযোগী খুন হয়েছিলেন। নীতীশ কুমারের পাশে থাকার কারণেই তাঁদের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফলে প্রথমে করা মন্তব্য এবং পরে দেওয়া ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।আগামী ২৩ অক্টোবর বিহারের আটটি বিধান পরিষদ আসনে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। তার আগে শাসক দলের এক বিধায়কের এমন মন্তব্য রাজনৈতিক লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করেছে। একদিকে বিরোধীরা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে সরকারকে নিশানা করছে, অন্যদিকে জেডিইউ নেতৃত্ব বিতর্ক থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।ভোটের আগে অনন্ত সিংয়ের মন্তব্য এবং পরবর্তী ব্যাখ্যা বিহারের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Popular Categories


