দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে কলকাতা পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বরাবরই প্রশংসা শোনা যায়। কিন্তু চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে শিশু-সহ ১৯ জনের মৃত্যুর পর সেই ব্যবস্থাপনা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল? মণ্ডপের নিরাপত্তায় কোথায় ঘাটতি ছিল? ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকেরা কি পরিস্থিতি বুঝতে পারেননি? দুর্ঘটনার পর এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন মৃতদের পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।মৃত মিঠু মণ্ডলের ছেলে সৌরভ মণ্ডলের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় সেখানে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স ছিল না। পুলিশের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের বক্তব্য, এই ঘটনার পিছনে প্রশাসনিক অব্যবস্থা বা পুলিশের কাজে দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে মণ্ডপ থেকে বেরনোর পথের ব্যবস্থা নিয়ে। অভিযোগ, বেরনোর রাস্তা ছিল সংকীর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে বেরোতে গেলে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তা সত্ত্বেও ভিড়ের চাপ কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুজোর আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।এই ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, চোরবাগান সর্বজনীনের প্রবেশ ও বেরনোর পথের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার দুই পুলিশ আধিকারিক। তাঁদের পাশাপাশি কনস্টেবল, ইনস্পেক্টর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার পুলিশকর্মীরাও দায়িত্বে ছিলেন বলে খবর। তা হলে এত লোক কীভাবে বেরনোর পথে জমা হলেন এবং পরিস্থিতি সামলাতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ভূমিকা কী ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকদের একাংশের মতে, পুজোর সময় ভিড় বিপজ্জনক হয়ে উঠলে দ্রুত অভিজ্ঞ অফিসারদের কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি বুঝে আগেভাগে ভিড়ের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অনেক সময় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। চোরবাগানের ঘটনায় সেই ব্যবস্থা যথাসময়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর অবশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে তৎপর হয়েছে কলকাতা পুলিশ। শহরের বড় পুজোমণ্ডপগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভিড় ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য কলকাতায় আনা হয়েছে ন’জন আইপিএস আধিকারিককে।তবে দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকে কী কী সতর্কতা ছিল, তা জানাও জরুরি। চোরবাগানের ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। মৃতদের পরিবার এখন এই ঘটনার সঠিক কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর চাইছে।
Popular Categories

