হুগলির আরামবাগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই অনেক মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পর বহু মানুষ নিজের নাম রয়েছে কি না তা নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন। কিন্তু সেই তালিকায় অনেকের নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় থাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
আরামবাগের মায়াপুর–১ পঞ্চায়েতের মালিপুকুর এলাকার ১৫৮ নম্বর বুথে এই সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে। জানা গেছে, ওই বুথে একসঙ্গে প্রায় ১১০ জন ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। ফলে ওই ভোটাররা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, ওই বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) মনিরউদ্দিন মল্লিকের নিজের নামও ওই তালিকায় রয়েছে। শুধু তার নামই নয়, তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের নামও একই তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার স্ত্রী, মা-সহ পরিবারের মোট সাতজনের নাম বিচারাধীন তালিকায় থাকায় বিষয়টি ঘিরে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
মনিরউদ্দিন মল্লিক জানিয়েছেন, এই বুথের মোট ২৪২ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে অধিকাংশ মানুষকে শুনানিতে হাজির করিয়েছিলেন। তবুও কেন এখনও ১১০ জনের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই অনেক মানুষ তার বাড়িতে এসে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইছেন।
তিনি বলেন, তার নিজের কাছে পাসপোর্ট-সহ বিভিন্ন সরকারি নথি রয়েছে। তাই তিনি আশা করছেন যে শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হবে। তবে তার আশঙ্কা, অনেক প্রতিবেশীর কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নেই। অথচ তারা বহু বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোটও দিয়ে আসছেন। তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।
মনিরউদ্দিনের মেয়ে জেমিমা ইয়াসমিনও জানান, এলাকার বহু মানুষ খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা প্রায়ই তাদের বাড়িতে এসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। তার কথায়, অধিকাংশ মানুষের কাছেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। তাই তাদের বৈধ ভোটার হওয়া নিয়ে সন্দেহ থাকার কথা নয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আরামবাগ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডেও প্রায় ৫০ জন সংখ্যালঘু ভোটারের নাম একইভাবে বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। অনেকেই শুনানির সময় পাসপোর্টসহ বিভিন্ন নথি জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করছেন, তবু তাদের নাম এখনও চূড়ান্ত তালিকায় নিশ্চিত হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র। ভোটার তালিকা নিয়ে আরামবাগের বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই অপেক্ষা করছেন, শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না।


