কেটে গেলো দীর্ঘ ৫ বছর! এখনও জেলেই দিন কাটছে উমর খালিদ, শারজিল ইমামসহ আরও কয়েকজন NRC এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের। প্রত্যেকের পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত, চোখের জলও যেন শুকিয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত শুনানি হলেও বৃহস্পতিবারও তারা জামিন পাননি। পরবর্তী শুক্রবার শুনানি হতে চলেছে। কিন্তু জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জামিনের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দিল্লি পুলিশ—যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার মামলায় শারজিল, উমরসহ অন্যদের জামিনের বিরোধিতা করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টে বেশ চাঞ্চল্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের আইনজীবী অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজু আদালতে দাবি করেন, এই বুদ্ধিজীবীরাই দেশের জন্য বড় হুমকি। তার ভাষায়, মাঠের অশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের তুলনায় শিক্ষিত শ্রেণির এই মানুষরা নাকি আরও বেশি বিপজ্জনক। তিনি উদাহরণ হিসেবে লালকেল্লা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষও সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। রাজুর মতে, যারা রাষ্ট্রের সুবিধা নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে সমাজকর্মী বা ডাক্তার হন, তারা যদি দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেন, তাহলে তাদের অপরাধ আরও গুরুতর। রাজু আদালতে দাবি করেন, CAA বিরোধী আন্দোলন ছিল আসলে সরকার ফেলে দেওয়ার বড় পরিকল্পনার অংশ। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরকে সামনে রেখে এই আন্দোলনের ছক কষা হয় বলেও পুলিশের অভিমত।


