দেশজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্নকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই আবহেই অসমে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে শাসক দল। রাজ্যেরই এক বিজেপি বিধায়কের নাগরিকত্ব নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন এবং সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে গৌহাটি হাইকোর্ট রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নোটিস পাঠিয়েছে।
করিমগঞ্জ জেলার রাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিজয় মালাকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন দুই ব্যক্তি। মামলাকারীদের দাবি, বিজয় মালাকার এবং তার বাবা-মা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর অসমে প্রবেশ করেছেন, যা নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তারিখ। তাদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসমে বসবাসের দাবি করা হলেও ২০০৫ সালের আগে বিজয় মালাকার বা তার পরিবারের কারও নাম ভোটার তালিকায় ছিল না।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালেই প্রথমবার বিজয় মালাকার, তার বাবা ও মায়ের নাম ভোটার তালিকায় ওঠে। এর আগের কোনও ভোটার তালিকা বা সরকারি নথিতে তাদের নাম পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি ২০০৫ সালের আগের সময়ে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে কোনও গ্রহণযোগ্য নথিপত্রও তারা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ।
এই বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে গৌহাটি হাইকোর্ট রাজ্য সরকার, রাজ্য নির্বাচন আধিকারিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে বিধায়কের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বহু সাধারণ মানুষকে আটক, উচ্ছেদ বা সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আগেও। সেই প্রেক্ষাপটে শাসক দলের একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া না আসায় কৌতূহল ও জল্পনা আরও বেড়েছে।


