অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং প্রকাশ্যে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (এআইএমপিএলবি) এবং একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।এআইএমপিএলবি অভিযোগ করেছে, মুখ্যমন্ত্রী শর্মা তার বিভিন্ন বক্তব্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন, যা দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। বোর্ডের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টকে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে (সুও মোটু) এই বিষয়টি গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ল’ বোর্ড মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসাংবিধানিক ও বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বোর্ডের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে মুসলিমদের হয়রানি, ভোটাধিকার হরণ এবং অর্থনৈতিক বয়কটের ডাক দিয়েছেন। বোর্ড সতর্ক করেছে, এ ধরনের বক্তব্য দেশে সামাজিক শান্তি ও আইনের শাসনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।ল’ বোর্ডের মুখপাত্র ড. এস. কিউ. আর. ইলিয়াস বলেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য এখন আর প্রান্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ক্ষমতাসীন মহলের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, “যা একসময় গোপনে বলা হতো, এখন তা প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বলা হচ্ছে।”তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তিনসুকিয়ায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ‘মিয়া’ শব্দ ব্যবহার করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হয়রানির আহ্বান জানান। বোর্ডের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ভোটার তালিকা থেকে লক্ষাধিক মুসলমানের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফর্ম নম্বর ৭ পূরণে মানুষকে উৎসাহিত করেছেন।উল্লেখ্য, অসমে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং রাজ্যে শিগগিরই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর মুসলিম বিরোধী বক্তব্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড
Popular Categories


