অসমের নগাঁও জেলায় ১৫ জন মুসলিমকে অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করায় ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৫০ সালের ইমিগ্র্যান্ট আইন কার্যকর করে জেলা প্রশাসন তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। নগাঁওয়ের জেলা কমিশনার দেবাশিষ শর্মা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যাদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ধিং এলাকার জহুরা খাতুন (৪৮), নগাঁও শহরের আবদুল আজিজ (৪৫), জুরিয়া এলাকার আহেদা খাতুন (৪৬), রূপাহি হাটের আজুফা খাতুন (৪৫), রাহা এলাকার হুসেন আলি (৪৬), ইদ্রিশ আলি (৪২) ও নজরুল ইসলাম (৪৫), বটদ্রবার ফজিলা খাতুন (৫৫), সামাগুড়ির অনুরা বেগম (৫৫), আশা খাতুন (৫৯), দীঘালিয়াটির রহিম শেখ (৪৬), বুরেক আলি (৬০), হাতিগাঁও-এর রুস্তম আলি (৬০), জখলাবান্দার আনোয়ার খান (৭৩) এবং গোরাইমারির তাহের আলি (৫৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ১৫ জনকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, ধুবড়ি, করিমগঞ্জ অথবা দক্ষিণ শালমারা-মানকাচার রুট ব্যবহার করে তাদের অসম ছাড়তে বলা হয়েছে।
নোটিশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ না মানলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রশাসন। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তদের দাবি, তারা কেউই বাইরের দেশের নাগরিক নন। তাদের বক্তব্য, বহু প্রজন্ম ধরে তাদের পরিবার অসমেই বসবাস করে আসছে। তাদের কাছে জমির কাগজ, ভোটার পরিচয়পত্রসহ নানা নথি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার সংগঠন ও সাধারণ মানুষের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একতরফাভাবে কাউকে অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করা ন্যায়সঙ্গত নয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


