বেঙ্গালুরুর সারজাপুর রোডে অবস্থিত আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, প্রায় ২০ জন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) সমর্থক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে ঢুকে বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবি ছিল, ‘স্পার্ক এপিইউ রিডিং সার্কেল’-এর একটি আলোচনাচক্রে কাশ্মীরের কুনান পোশপোরা ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে “দেশবিরোধী ভাবনা” ছড়ানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠান বাস্তবে অনুষ্ঠিতই হয়নি এবং বিক্ষোভকারীরা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জানান, স্পার্ক নামে যে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে অনুষ্ঠানের পোস্ট করা হয়েছিল, সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নয়। কোনও অনুষ্ঠান করতে হলে আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক, যা এই ক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি।
এবিভিপি কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে নামফলকে কালি মাখান এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে “ব্যান স্পার্ক” লিখে দেয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কিছু সম্পত্তি নষ্ট করা হয় এবং নিরাপত্তারক্ষী ও কয়েকজন পড়ুয়াকে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
‘স্পার্ক এপিইউ রিডিং সার্কেল’ অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র সঙ্গে যুক্ত। আইসা অভিযোগ করেছে, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুর ঠেকাতে তৎপরতা দেখায়নি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রিশিকেশ বি.এস. সারজাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্পার্কের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। ছাত্র পরিষদ জানিয়েছে, অনুমতি না নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মভঙ্গ হতে পারে, কিন্তু তা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় সমাধান করা উচিত ছিল।
অন্যদিকে এবিভিপি বেঙ্গালুরু শাখা আইসা ও স্পার্ককে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


