দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌশুনি দ্বীপের বাগডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে মাত্র তিনজন নার্স এবং একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্বে রয়েছেন। চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে নার্সদেরই বেগ পেতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, এই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেওয়ালে ফাটল, আগাছায় ঢাকা চারপাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে গেছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের প্রায় ২০ কিমি দূরে নদী পার করে দ্বারিকনগর গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠাতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম চন্দ্র হাজরা মৌশুনি দ্বীপে ১০ শয্যার হাসপাতাল, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক পরিষেবা এবং অ্যাম্বুল্যান্স চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে তিন বছর আগে নির্মিত শৌচাগার বর্তমানে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
দ্বীপবাসী চাইছেন অবিলম্বে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, পরিকাঠামোর সংস্কার এবং ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হোক। জরুরি রোগী পরিবহণের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দ্রুত চালুরও দাবি উঠেছে। নামখানা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অভিষেক দাস বলেন, “মৌশুনি দ্বীপ একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সমস্যার বিষয়গুলো স্বাস্থ্য দফতরকে জানানো হয়েছে। শীঘ্রই একজন চিকিৎসক নিয়োগ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশ পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।” দ্বীপবাসী উদ্বিগ্ন, দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে বিপদের মুখে পড়ছেন। তারা আশা করছেন, স্বাস্থ্য দফতর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে উন্নত করবে এবং মৌশুনি দ্বীপে মানুষের জন্য নিরাপদ ও নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।


