বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মালদার পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা। মহদিপুর স্থলবন্দর এলাকায় প্রায় দেড় হাজার টন মজুত পেঁয়াজ পড়ে আছে বলে জানা গিয়েছে। নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগেই সেই পেঁয়াজ এখন স্থানীয় বাজারে খুব কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, গত মাসে বাংলাদেশ সরকার মহদিপুর বন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়। এই সুযোগ দেখে মালদার বেশ কিছু রপ্তানিকারক দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রচুর পেঁয়াজ কিনে মহদিপুরের কাছে গোডাউনে মজুত করেন। তাদের আশা ছিল, সেই সব পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠিয়ে ভালো লাভ করা যাবে।
কিন্তু মাত্র চার দিন আমদানি চলার পরই বাংলাদেশ হঠাৎ পেঁয়াজ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তার পর থেকে মালদার ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় ছিলেন, আমদানি আবার শুরু হবে কিন্তু মাস শেষ হতে চললেও সেই সুযোগ আর আসেনি। এদিকে এত দিন ধরে গোডাউনে থাকা পেঁয়াজে পচন ধরতে শুরু করেছে।
ফলে বাধ্য হয়ে তারা বাজারমূল্যের অনেক কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। মালদার বাজারে যেখানে সাধারণ মানের পেঁয়াজ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে রপ্তানির জন্য আনা ভালো মানের পেঁয়াজ মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর যেগুলো নষ্ট হওয়ার মুখে, সেগুলো ২ থেকে ৪ টাকা কেজিতে বেচে দিতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, বাংলাদেশের হঠাৎ সিদ্ধান্তে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, আর এখন সেই ক্ষতি সামলানোর কোনও উপায়ও তাদের নেই বলে জানায়।


