উত্তরপ্রদেশের বারেলির একটি ক্যাফেতে এক নার্সিং ছাত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঘিরে শনিবার চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জানা গিয়েছে, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে জন্মদিন পালন করতে গিয়েই হঠাৎ হামলার শিকার হন ওই ছাত্রী ও তার সহপাঠীরা। অভিযোগ, বজরং দলের কয়েকজন সদস্য ক্যাফেতে ঢুকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুজন মুসলিম ছাত্রকে মারধর করে।
জানা গেছে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মোট দশজন ছাত্রছাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছ’জন মহিলা ও চারজন পুরুষ। চারজন পুরুষের মধ্যে মাত্র দু’জন মুসলিম, বাকিরা হিন্দু। সকলেই একই ক্লাসের সহপাঠী বলে জানা গিয়েছে। পরিবার ও বন্ধুমহলের দাবি, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান ছিল এবং সেখানে কোনও আপত্তিকর কিছু ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর একদল বজরং দলের ক্যাফেতে ঢুকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে কেন হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে মুসলিম ছেলেরা রয়েছে। এরপরই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, ওই দুই মুসলিম ছাত্রকে হেনস্থা করা হয়। ছাত্রীটির বন্ধুদের মারধর করা হয়, এমনকি কয়েকজনের আঙুল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে নেটিজেনদের মধ্যে।
ছাত্রীর দাদা জানান, তার বোন সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা কোনওভাবেই এই হিংসাকে সমর্থন করি না। যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।” ঘটনার পর থেকে ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলেও পরিবারের দাবি। এই ঘটনার পর প্রথমে পুলিশ আক্রান্ত দুই মুসলিম ছাত্র ও ক্যাফের এক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে। তবে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তখনই কোনও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পরে জনরোষ বাড়লে ক্যাফে মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নতুন করে এফআইআর দায়ের করে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা জোর করে ক্যাফেতে ঢুকে ভাঙচুর ও মারধর করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এফআইআরে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কোনও বেআইনি কাজের কথা বলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


