রাজ্যজুড়ে চলছে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি। এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ভয় ও অনিশ্চয়তা। অনেকেই মনে করছেন, সামান্য ভুল বা অসঙ্গতির কারণে তাদের নাগরিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই মানসিক চাপের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে।
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনার খবর মিলেছে। মৃত ব্যক্তির নাম রমজান আলি (৪০)। তিনি মধ্যমগ্রামের রোহোতা চণ্ডীগড় পঞ্চায়েতের চইগড় গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বারাসত-২ ব্লকের বিডিও অফিসে ভোটার সংক্রান্ত শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন রমজান, সঙ্গে ছিলেন তার মা।
পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকায় রমজানের বয়স তার মায়ের থেকে বেশি দেখানো হয়েছিল। এই ভুল তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। শুনানির দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ তার বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুকে হাত দিয়ে তিনি আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার খবর পেয়ে বিডিও শেখর সাই দ্রুত সরকারি গাড়িতে তাঁকে বাগবান্ধা সইবেড়িয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তবে সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা রমজানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রমজানের পরিবারে দুই নাবালক ছেলে রয়েছে বলে জানা যায়। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন সপরিবারে রাজস্থানের জয়পুরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ভোটার শুনানির কারণে বাড়িতে ফিরে এসে এমন পরিণতি হবে, তা ভাবতেই পারছেন না তার আত্মীয়রা। মৃতের মা জানান, তিনি ও তার ছেলে আগেও একাধিকবার ভোট দিয়েছেন, তবুও আবার শুনানিতে ডাকা হয়।
খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে যান খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, মধ্যমগ্রামের বিধায়ক ও পুরসভার চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এই মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অযথা আতঙ্ক তৈরির ফলেই এমন ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অসুস্থতার খবর পেয়েই দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তবে শেষরক্ষা হয়নি।


