বেহালা পশ্চিমের একাধিক ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১২৯, ১৩০ ও ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিপাড়া-সহ আশপাশের এলাকায় বহু পুরনো বাসিন্দার নামে ‘ফর্ম-৭’ জমা পড়ায় স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলির একাংশের মধ্যে দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে তাদের নাম বাদ পড়তে পারে।
এলাকাবাসীদের দাবি, কয়েকশো বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা এখানে বসবাস করছেন। বাড়িঘর, জমিজমা, এমনকি ওয়াকফ সম্পত্তিও রয়েছে। তবুও হঠাৎ করে নাগরিকত্ব বা ভোটার হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তারা মানসিক চাপে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশন, স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
জানা গিয়েছে, কাজিপাড়ার এলাকার সেখ আব্বাস আলি, শেখ কুতুব উদ্দিন, সেখ রাশিদ আলি ও প্রবীণ বাসিন্দা মুহাম্মদ আলির মতো অনেকেই গভীর উদ্বেগে আছেন। তাদের বক্তব্য, বহু পুরনো নথি থাকা সত্ত্বেও এভাবে অভিযোগ তোলা অন্যায়। তারা মনে করছেন, অযথা তাদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা লিলি মণ্ডল জানান, তার ছেলের বিরুদ্ধেও আপত্তি জানানো হয়েছে। তিনি বহু বছর ধরে ভোটার হলেও মাঝের কয়েক বছর নাম না থাকায় এখন সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সমস্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে জানান তিনি।
১৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অভিজিৎ মুখার্জি জানান, যেসব ফর্ম জমা পড়েছে তার মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হয়নি। ইতিমধ্যে অভিযোগকারীদের তলব করা হচ্ছে। মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। কয়েকজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও হয়েছে। অন্যদিকে, ১১৫৩ জন ভোটারের নামে আপত্তি তোলার অভিযোগ সামনে এসেছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই মুসলিম। ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্চিতা মিত্র বলেন, অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেই আশা করছেন বাসিন্দারা। তবে এখনো অনিশ্চয়তার ছায়া কাটেনি এলাকায়।


