বাংলায় হেনস্থার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের উপর ধারাবাহিক হেনস্থা ও হয়রানির অভিযোগ উঠছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক, দিনমজুর এবং সাধারণ বাঙালি নাগরিকদের শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোথাও তাঁদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশি জেরা, হেনস্তা এবং আটক করার অভিযোগও সামনে আসছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভাষার ভিত্তিতে এই ধরনের আচরণ দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি লেখেন, বাংলা ভারতের অন্যতম প্রধান ভাষা এবং এই ভাষায় কথা বলা কোনও অপরাধ হতে পারে না। অথচ বাংলায় কথা বললেই মানুষকে বিদেশি বা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, যাতে কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। তিনি চান, কোনও ভারতীয় নাগরিক যেন ভাষা বা সংস্কৃতির কারণে অপমানিত না হন কিংবা হয়রানির শিকার না হন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে যান। তাঁদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করা কেন্দ্র ও রাজ্য—দু’পক্ষেরই দায়িত্ব। ভাষাগত বিদ্বেষ বা বিভাজনের রাজনীতি দেশের ঐক্যের পক্ষে ক্ষতিকর বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। এই চিঠিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাঙালিদের সম্মান রক্ষায় রাজ্য সরকার সবসময় পাশে থাকবে। অন্যদিকে বিরোধীরা এই ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে গভীরভাবে, এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।


