বিহারের নওয়াদা জেলায় গণপিটুনির শিকার হয়ে মৃত্যু হলো এক মুসলিম কাপড় বিক্রেতার। মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আথার হুসেন। ৫ ডিসেম্বর রাতে মারধর ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়সি আথার হুসেন সেদিন রাতে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সাইকেল করেই তিনি গ্রামে গ্রামে কাপড় বিক্রি করতেন। বারুই গ্রামে ফেরার পথে ভাট্টাপার গ্রামের কাছে তার সাইকেলে সমস্যা দেখা দেয়। কাছাকাছি সাইকেল সারানোর দোকান জানতে তিনি কয়েকজনের কাছে সাহায্য চান।
সেই সময় ওই ব্যক্তিরা প্রথমে তার নাম ও পেশা জানতে চায়। এরপর হঠাৎ করেই তাকে সাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। অভিযোগ, ওই দুষ্কৃতিদের দলটি ১৫ থেকে ২০ জনের ছিল। তারা আথার হুসেনের টাকা কেড়ে নেয় এবং হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে আটকে রাখে।
পরবর্তীতে তাকে ইট, লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। তার আঙুল ভেঙে দেওয়া হয়। এমনকি গরম লোহার রড দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মারধরের ফলে তার মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে এবং শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়।
রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ জরুরি নম্বর ১১২-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আথার হুসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নওয়াদা সদর হাসপাতাল এবং পরে পওয়াপুরির ভিআইএমএস হাসপাতালে পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শেষরক্ষা হয়নি তার।
মৃতের স্ত্রী শাবনাম পারভিন ৬ ডিসেম্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ভাট্টাপার গ্রামের ১০ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা জানান। অভিযোগে বলা হয়েছে, চুরির মিথ্যা সন্দেহে তার স্বামীকে ধরে এনে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। অভিযোগ জানাতে গেলে পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় বেআইনি জমায়েত, দাঙ্গা, গুরুতর জখম ও হত্যার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। শাবনাম পারভিন জানান, আথার হুসেনই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। গত ২০ বছর ধরে তিনি কাপড় বিক্রি করতেন এবং আগে কখনও এমন সমস্যার মুখে পড়েননি।


