বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ঘুরপথে NRC!
মোদি সরকারকে ধুয়ে দিলেন আসাউদ্দীন ওয়েসি
হায়দরাবাদের লোকসভার সাংসদ এবং অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনার সুর চড়িয়েছেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যের মূলে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা—বিহারে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা। এই দুই ঘটনাকে সামনে রেখে ওয়াইসি মোদি সরকারের কার্যকারিতা এবং দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলেছেন।
তেলেঙ্গানার বোধন শহরে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ওয়াইসি সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকার একদিকে বিহারের ভোটার তালিকায় ‘বিদেশি অনুপ্রবেশকারী’ খুঁজে বের করার দাবি করে, কিন্তু অন্যদিকে পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ হয়। তিনি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—রাষ্ট্রযন্ত্র কোথায় গেল? গোয়েন্দা ব্যবস্থা কী করছে? তাঁর মতে, সরকার বিহার ও অসমের মানুষকে চিহ্নিত করতে তৎপর হলেও, নিজের নাগরিকদের সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অক্ষম।
ওয়াইসি পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গে আরও গভীরভাবে আলোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, এই হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করা না হলে ‘অপারেশন সিঁদুর’ বন্ধ করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না চারজন সন্ত্রাসী ধরা পড়ছে, ততক্ষণ তিনি সরকারের কাছে কঠিন প্রশ্ন তুলতে থাকবেন। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যখন সন্ত্রাসীরা হিন্দু ভাইদের ওপর হামলা চালাচ্ছিল, তখন কি প্রশাসন ঘুমিয়ে ছিল? তাঁর এই বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ স্পষ্ট।
জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহাও ওয়াইসির সমালোচনার তীর থেকে রেহাই পাননি। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া হামলার পর সিনহা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঘটনাটিকে নিরাপত্তার ব্যর্থতা বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, নিরপরাধ মানুষের হত্যার দায় তিনি নিজে নিচ্ছেন এবং এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াইসি তীব্র ভাষায় বলেন, এখন জুলাই মাসে এসে ভুল স্বীকার করা হচ্ছে, কিন্তু ঘটনার সময় কী করা হয়েছিল? তিনি সিনহার বক্তব্যকে দেরিতে জাগ্রত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন।
ওয়াইসি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রতিবেশী অঞ্চলের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত চারপাশে চিনের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশী দ্বারা ঘেরা। পহেলগাঁও হামলাকে তিনি মোদি সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সরকার দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, বিহারে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান নিয়েও ওয়াইসির তীব্র আপত্তি রয়েছে। এই অভিযানের পর রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। বিরোধী দলের অনেক নেতা অভিযোগ করেছেন, ‘অবৈধ ভোটার’ শনাক্ত করার নামে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ওয়াইসি এই অভিযানকে বিজেপির রাজনৈতিক চাল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই বিজেপি ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ শনাক্ত করার নাটক শুরু করে। তাঁর দাবি, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর একটি কৌশল মাত্র।
এই সমস্ত বক্তব্যের মাধ্যমে ওয়াইসি মোদি সরকারের নীতি ও কার্যকলাপের দুটি দিক—নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা—নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট, তিনি এই বিষয়গুলোতে সরকারের জবাবদিহি দাবি করতে বদ্ধপরিকর। এই ঘটনা ও বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।


