প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তবে শুধু হামলার ঘটনাই নয়, এই ঘটনার পর বিকাশরঞ্জনের করা মন্তব্য নিয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ। অভিযোগ, কয়েক জন ব্যক্তি বিকাশরঞ্জনের বাড়ির জানলা লক্ষ্য করে মদের বোতল ছোড়েন। এতে জানলার কাচ ভেঙে যায়। সেই সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিকাশরঞ্জনের দাবি, হামলাকারীদের ছোড়া বোতলের আঘাত থেকে তাঁর বাড়ির এক পরিচারিকা অল্পের জন্য রক্ষা পান।
ঘটনার পর বিকাশরঞ্জন এই হামলার জন্য হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করেন। তাঁর বক্তব্য, গরিব মানুষের হয়ে আইনি লড়াই করেন বলেই তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর এই মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) চিকিৎসক সংগঠনের একটি সর্বভারতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়ে শুভেন্দু জানান, হামলার অভিযোগের পাশাপাশি বিকাশরঞ্জনের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৯ বছর বয়সি বাপ্পা গুছাইতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গড়িয়ার বাসিন্দা। অভিযোগ, মুখে গামছা বেঁধে তিনি বাড়ির জানলার দিকে মদের বোতল ছুড়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই গ্রেফতারের কথা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাই কোর্টকেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা এক ব্যক্তিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিকাশরঞ্জন। গালিগালাজের একটি অডিয়ো রেকর্ডিংও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও ওই ফুটেজ ও অডিয়োর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
একজন প্রবীণ আইনজীবীর বাড়িতে এমন ঘটনার নিন্দা করেছে আইনজীবী মহল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই হামলার সমালোচনা করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিকাশরঞ্জন বলেন, তিনি তদন্তে আপত্তি করছেন না। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী সংবিধান মেনে শপথ নিয়েছেন, তাই তাঁর কাজ হওয়া উচিত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা। গোটা ঘটনায় হামলার তদন্তের পাশাপাশি মন্তব্য নিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

