দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার অনুমতি চেয়ে ফের পুলিশের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ দলের তিন শীর্ষ নেতা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আবেদন জানাবেন। দলের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্ষোভের অনুমতি না মিললে তাঁরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
রবিবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি বলেন, দলের আর দুই যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও রত্না সিংহকে সঙ্গে নিয়ে তিনি থানায় যাবেন। তাঁদের উদ্দেশ্য, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া।
আশুতোষের বক্তব্য, দিল্লি পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষোভের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিতে পারে। তা না হলে দল নিজেরাই আন্দোলনের দিন ঘোষণা করবে। পুলিশের অনুমতি না পেলেও তাঁরা প্রতিবাদ থেকে পিছিয়ে আসবেন না বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।
ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও ছিল তাদের দাবির মধ্যে। তবে ওই কর্মসূচির দিন আন্দোলনকারীদের সেখানে পৌঁছতে বাধা দেয় পুলিশ। বিভিন্ন জায়গায় জমায়েত করার চেষ্টা হলে কয়েক জনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
দলের দাবি, বিক্ষোভে যোগ দেওয়া আটকাতে দিল্লিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করা হয়েছিল। শনিবারের ঘটনাকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন সিজেপি নেতারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি পুলিশ। রবিবার পুলিশের ডেপুটি কমিশনার নেহা যাদব জানান, গত জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপিকে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় আন্দোলনকারীদের একাংশ নিয়ম ভেঙেছিলেন বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর দাবি, জমায়েতে পাথর ছোড়া এবং অস্ত্র আনার মতো ঘটনা ঘটেছিল। এতে সরকারি সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়।
পুলিশের বক্তব্য, আগের ঘটনার কথা মাথায় রেখেই নতুন করে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সিজেপি তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে। ফলে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নজর তৈরি হয়েছে।


