পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বিজেপির অন্দরেই নতুন করে অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। রাজ্য বিজেপি সম্প্রতি আসন্ন নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। সেই তালিকায় মহিষাদল কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সুভাষচন্দ্র পাঁজাকে, যিনি পেশায় ব্যবসায়ী। প্রার্থী ঘোষণার পরই দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক কর্মী দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০২১ সালের মহিষাদলের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগে। তিনি বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান। চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তাঁকে আবার প্রার্থী না করায় তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দল তার আগের চরিত্র হারিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর কথায়, এখন দলটি সাধারণ কর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে আর্থিকভাবে শক্তিশালী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এতে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, কোনও সাধারণ কর্মীকে প্রার্থী করা হলে তাঁদের আপত্তি থাকত না। এই পরিস্থিতিতে তিনি আর কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না বলেও স্পষ্ট করেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ সরকার বলেন, এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমস্যা হলেও এই ঘটনা তাদের পুরনো অভিযোগকেই সামনে আনছে। তাঁর দাবি, বিজেপি বাইরের প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় স্তরের কর্মীরা নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন। মহিষাদল কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন নির্বাচনের আগে দলের সংগঠনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


