Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উচ্ছেদ অভিযানে ভিটেমাটি হারালেন অসমের শতাধিক মুসলিম পরিবার!

বিজেপি শাসিত অসমের কামরূপ জেলার আজারা এলাকায় শনিবার বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই জমি ‘ট্রাইবাল বেল্ট’ হিসেবে সংরক্ষিত, তাই সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালানো এই অভিযানে প্রায় ৫০০টি মুসলিম বাড়ি ভাঙা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় ৭৩৭ বিঘা জমি জুড়ে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, এই এলাকা মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট। নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র সেই সম্প্রদায়ের মানুষ বা যারা এই জমি সংরক্ষিত ঘোষণার আগে থেকে সেখানে বসবাস করছেন, তাঁরাই থাকার অধিকার রাখেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাসিন্দাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তাদের ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয় জায়গা খালি করার জন্য। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দাবি একেবারেই ভিন্ন। তাঁদের অনেকেই বাংলাভাষী মুসলিম পরিবার, যারা প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁদের কথায়, বন্যা ও নদীভাঙনের ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে তাঁরা এখানে এসে বসতি গড়েছিলেন। কিছু পরিবার আবার অভিযোগ করেছেন, এতদিন তাঁরা সরকারের বিভিন্ন সুবিধাও পেয়েছেন, ফলে প্রশাসন তাঁদের উপস্থিতির বিষয়ে অবগতই ছিল।

উচ্ছেদের সময়ের কিছু ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বুলডোজার দিয়ে একের পর এক কাঁচা ঘর ভেঙে ফেলা হচ্ছে। পাশে দাঁড়িয়ে মহিলা ও শিশুরা অসহায়ের মতো সবকিছু দেখছেন, আর পুলিশ পুরো ঘটনাটি নজরে রাখছে।

এই অভিযান রাজ্যজুড়ে চলা বৃহত্তর ‘অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ’ কর্মসূচিরই অংশ বলে জানিয়েছে অসম বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বারবার বলেছেন, সংরক্ষিত জমি, বনভূমি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। ২০২৪ সাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এমন অভিযান চালিয়ে বহু ঘরবাড়ি সরানো হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

তবে এই ঘটনাকে ঘিরে মানবাধিকার কর্মী ও বিরোধী মহলের অভিযোগ, এই ধরনের উচ্ছেদে মূলত গরিব ও অসহায় সংখ্যালঘু মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁদের অনেকেরই মাথা গোঁজার অন্য কোনও জায়গা নেই। সম্প্রতি এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। যদিও সমালোচকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে এবং সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে।

Hot this week

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

অগ্নিনিরাপত্তায় বড়সড় গলদ! অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার কড়া নোটিস দমকলের

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

Related Articles

Popular Categories