রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ক্ষমতা দখল ও ভাগাভাগি নিয়ে শাসকদল বিজেপির অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে চলে এল। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় দলের ক্ষমতার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর কামড়াকামড়ি সোমবার দুপুরে এক রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। ডেবরা ব্লকের হরিদ্রাপাট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে দলীয় কর্মীদের হাতেই আক্রান্ত ও গুরুতর জখম হন দেবাশিস প্রামাণিক নামে এক বিজেপি নেতা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে বিজেপির তথাকথিত অনুশাসনের কঙ্কালসার চেহারাটি উন্মোচিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় শিশুদের সরকারি দুধ সরবরাহ সংক্রান্ত একটি বিষয়ে খোঁজখবর নিতে সোমবার হরিদ্রাপাটের একটি দোকানে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা দেবাশিস প্রামাণিক। অভিযোগ, তিনি সেখানে পৌঁছনো মাত্রই দলেরই অন্য একটি গোষ্ঠীর উগ্র কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাঁর ওপর আচমকা চড়াও হয়। বচসা থেকে শুরু করে হাতাহাতি এবং পরে দেবাশিসবাবুকে বেধড়ক মারধর করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে তাঁর অনুগামীরা দ্রুত ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ডেবরায় দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার রাশ এবং এলাকা দখল নিয়ে চাপা উত্তেজনা চলছিল। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সেই ক্ষমতার দম্ভ ও টাকার লোভ সামলাতে না পেরে কর্মীরা নিজেদের নেতার গায় হাত তুলতেও দ্বিধা করছে না। এই ঘটনার পর নিজেদের মুখ পুড়তে দেখে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে। আক্রান্ত নেতার পরিবার পুরো বিষয়টির বিচার চেয়ে ডেবরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, ক্ষমতার লোভে মত্ত এই দলের অন্দরমহলের নোংরা লড়াই এখন বাংলার শান্তি ও শৃঙ্খলা পুরোপুরি বিঘ্নিত করছে।


