নদিয়ার শান্তিপুরে এক নাবালিকার শ্লীলতাহানির বিচার চাইতে গিয়ে খোদ রাজ্যের নতুন শাসকদল বিজেপির বুথ সভাপতির চরম হুমকি ও অত্যাচারের মুখে পড়তে হলো নির্যাতিতার পরিবারকে। বছর দেড়েক পুরনো একটি পকসো মামলার মূল অভিযুক্ত বর্তমানে জেলে থাকলেও, তাঁর পরিবারের হয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। অভিযোগ উঠেছে, ওই পকসো মামলা আদালত থেকে তুলে নেওয়ার জন্য নির্যাতিতার বাড়িতে চড়াও হয়ে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং আইনি লড়াই বন্ধ না করলে পুরো পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিপুরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিজেপির এই বাহুবলী ও অপরাধী-বান্ধব রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই যে বাংলায় অপরাধী ও দুষ্কৃতীদের মনোবল কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা তলানিতে ঠেকেছে, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শান্তিপুরে এক নাবালিকার শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ ওঠে তাঁরই এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। সেই সময় নির্যাতিতার পরিবার শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ পকসো আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে সেই মূল অপরাধী জেল হেফাজতে রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি নির্যাতিতার পরিবার বিস্ফোরক অভিযোগ এনে জানিয়েছে যে, ওই মামলাটি আদালত থেকে তুলে নেওয়ার জন্য তাদের ওপর তীব্র মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এলাকার বিজেপি বুথ সভাপতি এবং ধৃত অপরাধীর পরিবারের লোকজন দলবল নিয়ে এসে একাধিকবার তাঁদের বাড়িতে চড়াও হচ্ছে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে পিটিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিপুরের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। তৃণমূলের স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বীরেন মাহাতো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন যে, পকসো মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই তাদের বুথ সভাপতি এবং দলের অন্য কার্যকর্তারা এই পীড়িত ও অসহায় পরিবারটির ওপর জোর-জুলুম শুরু করেছে। এই অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনার কথা প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে আসরে নেমেছেন বিজেপি নেতা সদানন্দ হালদার। তিনি দাবি করেছেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে তাঁদের দলের কর্মী ছিলেন, তবে বর্তমান বুথ সভাপতি এই হুমকির সঙ্গে যুক্ত কি না তা তিনি জানেন না। যদিও দল উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ফাঁকা আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি শাসিত অন্য রাজ্যগুলির মতোই এবার বাংলাতেও অপরাধীদের আড়াল করতে এবং নারীদের কণ্ঠরোধ করতে ক্ষমতার অপব্যবহারের নোংরা খেলা শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। আপাতত নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


