দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে গেলে সংঘ–বিজেপির একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে, এমনই মত প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাদের মতে, তথাকথিত “ওয়াইসি এজেন্ডা” আসলে কোনও হঠাৎ তৈরি হওয়া ঘটনা নয়, বরং সুচিন্তিত মেরুকরণের রাজনীতি। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য একটাই, ভয় ও বিভাজনের মাধ্যমে ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা।
দেশের নানা প্রান্তে, বিশেষ করে মুসলিম যুবসমাজের মধ্যে আজ যে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অপমানবোধ দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। এই মানসিকতা একদিনে তৈরি হয়নি। বারবার দাঙ্গা, পুলিশের কড়া ব্যবহার, বিচার না পাওয়া এবং সংবাদমাধ্যমে একতরফা প্রচার—সব মিলিয়ে একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষত জমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি ক্ষমতায় থেকেও কেন সংখ্যালঘু বিদ্বেষকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়, তার উত্তর লুকিয়ে আছে এই রাজনীতিতেই। ভয় দেখানোর জন্য একটি স্থায়ী ‘শত্রু’ দরকার। সেই শত্রুকে সামনে রেখে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজকে একজোট করা সহজ হয়। প্রথমে ইতিহাসের চরিত্রদের সামনে আনা হয়েছিল। পরে সেই কৌশল বদলে বর্তমান সময়ের মুসলিম মুখ ও একটি নির্দিষ্ট দলকে ক্রমাগত প্রচারের আলোয় আনা হয়।
দাঙ্গা এই রাজনীতির সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, অশান্তি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট, মামলা ও সাক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও দায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির ঘাড়ে। এতে বিভ্রান্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এর ফল হতে পারে মারাত্মক। যৌথ রাজনীতি দুর্বল হচ্ছে, সমাজ ভাঙছে, সংখ্যালঘুরা আরও গুটিয়ে যাচ্ছে। এই প্রবণতা চলতে থাকলে ক্ষতি শুধু একটি সম্প্রদায়ের নয়, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোরই গভীর আঘাত আনবে, এমনটাই মত তাদের।


