জম্মু ও কাশ্মীর থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত এক বিজেপি সাংসদকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তিনি তার সাংসদ তহবিলের বড় অংশ নিজ রাজ্যের বদলে উত্তরপ্রদেশে খরচ করেছেন। এই নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাজ্যসভায় মনোনয়ন পান বিজেপির প্রবীণ নেতা গুলাম আলি খাতানা। গুজ্জর সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কাশ্মীরের রাজনীতিতে সক্রিয়। সাংসদ হিসেবে তিনি এমপিএলএডিএস প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ পান। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সাংসদ বছরে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুপারিশ করতে পারেন। সেই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে জেলা প্রশাসনের হাতে, তবে কোন এলাকায় কাজ হবে তা ঠিক করার অধিকার সাংসদেরই।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, খাতানা মোট ১৭৬টি উন্নয়নমূলক কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৪টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। অর্থাৎ মোট তহবিলের প্রায় ৯৪ শতাংশই গিয়েছে ওই রাজ্যে। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে মাত্র ৩২টি প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ৯৪ লক্ষ টাকা।
এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই সমালোচনায় সরব হয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি)। ন্যাশনাল কনফারেন্সের মুখপাত্র তানভীর সাদিক সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মনোনীত একজন সাংসদ যদি তার অধিকাংশ তহবিল অন্য রাজ্যে ব্যয় করেন, তবে এই অঞ্চলের মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
পিডিপির যুব নেতা আদিত্য গুপ্তও কড়া ভাষায় সমালোচনা করে জানান, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংসদে গেলেও উন্নয়নের অর্থ অন্যত্র পাঠানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অবিচার।
যদিও এই বিষয়ে এখনও খাতানার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই বাড়ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে।


