কর্ণাটকে আরএসএসকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আরএসএসের আইনি কাঠামো, অর্থের উৎস এবং সাংগঠনিক তথ্য প্রকাশের দাবি তুলে কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে যে চিঠি লিখেছিলেন, তার জবাবে এবার সরব হয়েছেন বিজেপি সাংসদ রমেশ জিগাজিনাগি এবং দলের আরও কয়েকজন নেতা।বিজাপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে রমেশ জিগাজিনাগি প্রিয়াঙ্ক খাড়্গের সমালোচনা করে বলেন, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মূল দায়িত্ব রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সেই কাজের দিকে নজর না দিয়ে তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, যা তাঁর দপ্তরের অগ্রাধিকারের মধ্যে পড়ে না বলেই দাবি বিজেপি সাংসদের।রমেশের প্রশ্ন, “একজন দলিত ব্যক্তি কেন আরএসএসকে নিয়ে এত চিন্তিত হবেন? আরএসএসকে নিবন্ধিত করিয়ে কী লাভ হবে? এগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।”রমেশের বক্তব্য, আরএসএস সম্পর্কে জানতে হলে সাধারণ মানুষের কাছেই তার উত্তর পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে বহু মানুষ এই সংগঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। তাঁর মতে, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রিয়াঙ্ক খাড়্গের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের ছেলে হওয়ার কারণেই প্রিয়াঙ্ক মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। রাজ্যের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিষয়গুলির দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সম্প্রতি প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে একটি খোলা চিঠি লেখেন। সেখানে সংগঠনের শতবর্ষ পূর্তির জন্য শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আরএসএসকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের আর্থিক লেনদেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, কর সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রশাসনিক কাঠামো প্রকাশ করারও দাবি তোলেন তিনি।প্রিয়াঙ্কের দাবি, দেশের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন হিসেবে আরএসএসেরও অন্যান্য ট্রাস্ট, সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় থাকা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, আরএসএসের বার্ষিক প্রতিবেদনে কর্ণাটকে হাজার হাজার শাখা, সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে। এত বড় পরিসরে কার্যকলাপ পরিচালনা করলে তার আইনি অবস্থান এবং আর্থিক স্বচ্ছতা সম্পর্কে মানুষের জানার অধিকার রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।এই ইস্যুতে প্রিয়াঙ্ক খাড়্গেকে আক্রমণ করেছেন প্রাক্তন বিজেপি মন্ত্রী এম পি রেণুকাচার্যও। তিনি অভিযোগ করেন, আরএসএসকে নিশানা করার বদলে রাজ্যের সরকারকে দেশের বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।রেণুকাচার্যের দাবি, আরএসএস ও সংঘ পরিবারকে নিয়ে ধারাবাহিক সমালোচনা করলে তার রাজনৈতিক মূল্য কংগ্রেসকে দিতে হবে। ভবিষ্যতের নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্কবার্তা দেন।আরএসএসকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন কর্ণাটকের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দুই শিবিরের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বিষয়টি আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
‘RSS নিয়ে একজন দলিতের এতো চিন্তা কিসের?’ প্রিয়াঙ্ক খাড়্গেকে কড়া ভাষায় আক্রমণ বিজেপি সাংসদ রমেশ জিগাজিনাগির
Popular Categories


