22 C
Kolkata
Saturday, November 27, 2021

বিজেপির নবান্ন অভিযান করেছে নাকি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযান?

Must read

বিজেপি কী নবান্ন অভিযান করতে চেয়েছিল?‌ রাজ্য–রাজনীতিতে আজ এই প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠছে। কারণ গেরুয়া শিবির এই কর্মসূচিকে নবান্ন অভিযান বলে চালানোর চেষ্টা করলেও, এটা আসলে ছিল পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযান। শুরুতেই দেখা গেল, সোনারপুরে রেল পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল বিজেপি কর্মীরা। তারপর হেস্টিংসে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তাদের ওপর আক্রমণ করল। হ্যাঁ, পুলিশও পাল্টা লাঠিচার্জ করেছে। জলকামান ছুঁড়েছে। আবার খানিকটা অকাল হোলিও খেলেছে রং জল দিয়ে। তারপরই দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিজেপি নেত্রীরা ঝাঁপিয়ে পড়লেন। আর পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ল।

পুলিশ বনাম বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষে রাজপথে যুদ্ধক্ষেত্র দেখল কল্লোলিনী কলকাতা। হেস্টিংস ও বড়বাজার রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। একই পরিস্থিতি দেখা যায় সাঁতরাগাছি এবং হাওড়া ময়দানেও। নবান্ন বন্ধ। তবুও বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে অশান্তি সহ্য করল বাংলার মানুষ। জি টি রোড, হেস্টিংস, হাওড়া ময়দান সংলগ্ন এলাকায় মিছিলকে কেন্দ্র করে তুলকালাম বাঁধে। ব্যারিকেড ভেঙে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা এগোতেই গোটা এলাকায় শুরু হয়ে যায় ধুন্ধুমার।

যদিও সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বিজেপি’‌র সর্বভারতীয় যুব মোর্চার সভাপতি তেজস্ব সূর্য। তিনি বলেন, ‘‌আমাদের এক হাজারের উপর কর্মী–সমর্থক আহত হয়েছেন। পাঁচশোর বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এটা কী গণতান্ত্রিক সরকার? আমরা বাংলার ঐতিহ্য পুনঃরুদ্ধার করব। এটা আজ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে কালো দিন।’‌ এদিন দেখা যায়, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়া শুরু হতেই পাল্টা মার দেয় পুলিশও। লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাসে গোটা এলাকা তখন রণক্ষেত্র। হাওড়া ময়দানের সামনে বোমাও পড়ে। সেখানে দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস ছোঁড়া হয়। ভাঙচুর হয় পুলিশের কিয়ক্স বুথ। রাস্তায় টায়ার জ্বেলে শুরু হয় বিক্ষোভ। হাওড়া ময়দানের সামনে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র। হাওড়ায় যে বিজেপি সমর্থকের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে তাঁর নাম বলবিন্দর সিং। পুলিশের দাবি, ওই বিজেপি সমর্থক অর্জুন সিং শিবিরের লোক।

এই ঘটনায় কলকাতার বিদায়ী মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌বিজেপি কোনও রাজনৈতিক দল নয়, ওটা সন্ত্রাসবাদীদের দল।’‌ হাওড়া ব্রিজের কাছে মিছিল পৌঁছতেই শুরু হয় আর এক দফা তুলকালাম। বিজেপি নেতৃত্বরাও পুলিশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। দিলীপ ঘোষের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সর্বত্র। তবে এদিনের এই অভিযানে, সামাজিক দূরত্ববিধি শিকেয় উঠে। এই বিষয়ে আবার কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের সাফাই, আমাদের সমস্ত কর্মী মাস্ক পরে রয়েছেন। বিধি কি শুধু আমাদের জন্য? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজার হাজার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। আমাদের শারীরিক দূরত্বের পাঠ শেখানো হচ্ছে। একই বিধি কি তাঁর (মমতার) জন্য প্রযোজ্য নয়?

এদিন নবান্নে পৌঁছতে না পেরে বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‌২০২১ সালে আমরা নবান্নে পৌঁছে যাব।’‌ এরপরই হাওড়ায় বোমাবাজি শুরু হয়ে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা পড়তে থাকে। যার জন্য মিলেছে বোমার সুতলি। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি চলে হাওড়া ব্রিজেও। পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিজেপি কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জিটি রোডে মিছিল থেকে পুলিশের দিকে ইট ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। জখম ডানকুনি থানার এসআই। এই সমস্ত ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখতে ঝাড়গ্রাম থেকে ফিরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানী ভবনে যান। সেখানে ডিজি’‌র সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। সব মিলিয়ে অমিত শাহ আসার আগে তেজস্বী সূর্যের নেতৃত্বে হাওয়া গরম করতে সক্ষম হলেন বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। ভোটের আর মাস সাতেক দেরি। তার আগে এরকম অভিযান আরো বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article