সম্প্রতি বোম্বে হাইকোর্টের একটি আদেশে সিপিআই(এম) তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গত ২৫ জুলাই মুম্বই পুলিশ প্যালেস্টাইনের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য দলটির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। এর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিল দলটি, কিন্তু বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে এবং গৌতম আঙ্খাদের বেঞ্চ পুলিশের সিদ্ধান্তকেই সমর্থন জানিয়েছে। এই আদেশকে দলটি শুধু সংবিধানবিরোধীই নয়, ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থানের প্রতিও অজ্ঞতার পরিচয় বলে মনে করছে।
আদালতের মন্তব্য ছিল চমকপ্রদ। তারা বলেছেন, “আপনারা গাজা এবং প্যালেস্টাইনের সমস্যা দেখছেন। নিজের দেশের দিকে তাকান। দেশপ্রেমী হোন। এটা দেশপ্রেম নয়।” এমনকি তারা আরও বলেছেন, “আপনারা জানেন না এটা কী ধুলো উড়াতে পারে। প্যালেস্টাইনের পক্ষে বা ইসরায়েলের পক্ষে যাওয়া—এটা কেন করতে চান? আপনাদের দলের চরিত্র দেখেই বোঝা যায়, দেশের বৈদেশিক নীতির উপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটা আপনারা বোঝেন না।” এই কথাগুলো শুনে মনে হয়, আদালত যেন ভারতের গৌরবময় ইতিহাস এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলো সম্পর্কে একেবারেই ওয়াকিবহাল নয়।
সিপিআই(এম) জোর দিয়ে বলেছে, এই আদেশ কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক পক্ষপাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা মনে করিয়ে দিয়েছে যে মহাত্মা গান্ধীর সময় থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং তার পরবর্তী ভারতের বৈদেশিক নীতি সবসময় প্যালেস্টাইনের জনগণের স্বাধীনতা ও মাতৃভূমির অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এই ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে আদালত যে মন্তব্য করেছে, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর একটি আঘাত।
আদালত এমনও বলেছে, “আপনারা ভারতে নিবন্ধিত একটি সংগঠন। আবর্জনা ফেলা, দূষণ, পয়ঃপ্রণালী, বন্যার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে পারতেন। কিন্তু আপনারা প্রতিবাদ করছেন হাজার হাজার মাইল দূরে ঘটে চলা কিছুর জন্য।” এই কথার মধ্যে যেন একটা অদ্ভুত অজ্ঞতা লুকিয়ে আছে। প্যালেস্টাইনের প্রতি ভারতের সমর্থন কি শুধুই একটি আন্তর্জাতিক বিষয়? না, এটা আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ। বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা হচ্ছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু আদালত এই বাস্তবতাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।
সিপিআই(এম) দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষদের এই আদেশের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই ঘটনা আমাদের সামনে একটা প্রশ্ন তুলে ধরে—আমরা কি আমাদের ইতিহাস ভুলে যাব? স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে প্যালেস্টাইনের জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের একটা গর্বের ঐতিহ্য। এখন সেই ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা হচ্ছে। এটা শুধু একটি আদালতের আদেশ নয়, আমাদের গণতান্ত্রিক চেতনার উপর একটা হুমকি।


