ভরতপুরের সাসপেন্ড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত মসজিদ শিলান্যাস অনুষ্ঠান নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট কোনও বাধা দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানায়, বেলডাঙায় শিলান্যাস কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে পারে, তবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে আয়োজকদের। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
মসজিদ নির্মাণের এই উদ্যোগ সংবিধানবিরোধী—এই অভিযোগ তুলে এক পক্ষ জনস্বার্থ মামলা করেছিল। মামলাটি শোনেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেন। বিচারপতিরা জানান, এই বিষয়ে আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। ফলে হুমায়ুনের অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা রইল না।
মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, এলাকায় আগেও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, তাই শিলান্যাস কর্মসূচি নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। আদালত শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের মতামতও জানতে চায়। কেন্দ্র জানায়, এলাকা অতীতে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত; পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা রাজ্যকে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে। আদালত উল্লেখ করে, রাজ্য ও কেন্দ্র মিলেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবে।
হুমায়ুন কবীর আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বাবরি মসজিদ ভাঙার দিনেই বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ নামে একটি নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তৃণমূল তাঁর উপর ক্ষুব্ধ হয়। বৃহস্পতিবার বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভার ঠিক আগে দল জানিয়ে দেয়, তাঁকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। এতে হুমায়ুন প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখান এবং জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি শিলান্যাস করবেই।
তিনি আরও জানান, ২২ ডিসেম্বর তিনি নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণাও করবেন। আদালতের রায়ের পরে তার শনিবারের কর্মসূচি সামনে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। এখন নজর থাকবে বেলডাঙায় প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়।


