পশ্চিমবঙ্গে সামনে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত। নির্বাচন সামনে আসতেই সরকারের প্রশাসনিক সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা বাড়তে দেখা গেছে। তবে তার মাঝেই একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ফের রাজ্য প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলছে। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিল বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ে।
২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসার পর বহু প্রার্থী এক রাতেই চাকরি হারান। সেই সময় থেকেই একটি বড় অংশ আদালতের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে নবম-দশম থেকে একাদশ-দ্বাদশ পর্যন্ত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। একইভাবে গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পদে হাজার হাজার চাকরি বাতিল হয়ে নতুন করে নিয়োগের পথ খুঁজছে সরকার। এই চলমান অস্থিরতার মধ্যেই কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার ১৬০০ অতিরিক্ত শূন্যপদের প্রশ্ন ফের বিতর্ক সৃষ্টি করে।
আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল, পুরনো প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও স্কুল সার্ভিস কমিশন বেআইনিভাবে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করেছে। এই নিয়েই মামলা ওঠে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চে। আদালত আবেদনকারীদের যুক্তিকে সঠিক বলে মনে করে জানায়, মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেলের ভিত্তিতে নতুন কোনও শূন্যপদ তৈরি করা আইনসম্মত নয়। তাই উচ্চ প্রাথমিকে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা বিভাগের ১৬০০ অতিরিক্ত শূন্যপদ সম্পূর্ণভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে থাকলেও তা আর এগোবে না। ফলে পুরো সিদ্ধান্তই অকার্যকর হয়ে গেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই রায় নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের জন্য বড় ধাক্কা।
তবে রায় প্রকাশের পরও স্কুলশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়ায় প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আদালতের এই নির্দেশ নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ বিতর্ককে সামনে এনে রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে জানা গিয়েছে।


