ব্রেস ব্রিজ রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন ওই এলাকার প্রায় ৬ হাজার বস্তিবাসী। আগামী ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ সংক্রান্ত সমস্ত পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ জারি থাকবে বলে জানিয়েছে আদালত।এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, সংশ্লিষ্ট আইন মেনে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণেই আপাতত সীমিত সময়ের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে। আদালত জানায়, ৯ মে ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া উচ্ছেদ নোটিসের কার্যকারিতা ২০ মে পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।ব্রেস ব্রিজ স্টেশন লাগোয়া এলাকায় বহু বছর ধরে বসবাস করছেন হাজার হাজার মানুষ। অভিযোগ, সম্প্রতি ইস্টার্ন রেলওয়ে একটি উচ্ছেদ নোটিস জারি করে জানায়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা খালি করতে হবে। নোটিসে আরও বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে রেল সুরক্ষা বাহিনী বা অন্য প্রশাসনিক বাহিনী ব্যবহার করে উচ্ছেদ করা হবে।এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, আইন অনুযায়ী যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, তা মানা হয়নি। আবেদনকারীদের বক্তব্য, পাবলিক প্রিমিসেস (ইভিকশন অফ আনঅথরাইজড অকুপ্যান্টস) আইন, ১৯৭১ অনুযায়ী প্রথমে নির্দিষ্ট ধারায় নোটিস দিতে হয়, বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিতে হয় এবং নিযুক্ত এস্টেট অফিসারের নির্দেশ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তার কোনওটিই করা হয়নি বলে অভিযোগ।আবেদনকারীরা আরও দাবি করেন, পুনর্বাসন বা বিকল্প বাসস্থানের কোনও ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এতে বহু মানুষের মাথার উপর ছাদ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। আইনজীবীদের মতে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে মানুষের বেঁচে থাকা, আশ্রয় এবং জীবিকার যে অধিকার স্বীকৃত, এই পদক্ষেপ তা লঙ্ঘন করতে পারে। মামলায় বাসিন্দাদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ অর্জন ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শামীম আহমেদ বৃত্তাংশু কর পূর্বায়ন চক্রবর্তী এবং রেশমা খাতুন।
ব্রেস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ৬ হাজার বাসিন্দাদের উচ্ছেদে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, রেলকে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
Popular Categories


