দশ বছর আগে নোটবন্দির ঘোষণা নিয়ে দেশজুড়ে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল, তার স্মৃতি এখনও মানুষ ভুলতে পারেনি। ২০১৬ সালের শীতের শুরুতে সরকার জানিয়েছিল, উচ্চমূল্যের পুরনো নোট বাতিল করলে নকল টাকা ও বেআইনি সম্পদের প্রবাহ বন্ধ হবে। সাধারণ মানুষের বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা মানলেও, সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন দেশের স্বার্থে এই কঠিন পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।
এক দশক পেরিয়ে এখন ফের কালো টাকার ইস্যুতে সরগরম সংসদ। চলতি বছরের ডিসেম্বরে শীতকালীন অধিবেশনে দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ মালা রায় কেন্দ্রের কাছে জানতে চান বিদেশে থাকা বেআইনি টাকা ফেরত আনার ক্ষেত্রে সরকার আসলে কতটা সফল হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানতে চান, গত কয়েক বছরে ঠিক কত সম্পদ দেশ ছেড়ে বাইরে চলে গিয়েছে।
এই প্রশ্নের জবাব দেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী। তিনি জানান, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর, এই তিন মাসে সরকার বিদেশে লুকিয়ে থাকা সম্পদের তথ্য পেয়ে মোট ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি অঘোষিত সম্পত্তি চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে কর ও জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। তার কথায়, আইন অনুসারে কালো টাকা বলে আলাদা কোনও ধারাই নেই।
এছাড়া গত দশ বছরে কত অঘোষিত বিদেশি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে, সেই তথ্যও দেন প্রতিমন্ত্রী। তার রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই ধরনের ১ হাজারের বেশি সম্পত্তি শনাক্ত হয়েছে, যেগুলির ভিত্তিতে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার কর ও জরিমানা দাবি করেছে। তবে উদ্ধার করা গেছে মাত্র কয়েকশো কোটি টাকা। তবে মালা রায়ের দ্বিতীয় প্রশ্ন, বিদেশে ঠিক কত কালো টাকা চলে গেছে সে বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট উত্তর দেয়নি কেন্দ্র।


