পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে অবশেষে বড়সড় সাফল্য মিলল। এই চাঞ্চল্যকর খুনের প্রধান অভিযুক্ত উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার তথা শার্প শুটার জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনু পুলিশের প্রবল চাপে পড়ে বালিয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। আদালত তাকে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মনু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভিনরাজ্যের অসামাজিক ও অপরাধমূলক চক্রের সঙ্গে জড়িত। চন্দ্রনাথ রথ খুন ছাড়াও তার বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ ও অন্যান্য রাজ্যে কমপক্ষে ১২টি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। গত ২৫ মে মনুর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর থেকেই তার খোঁজে বিভিন্ন রাজ্যে হানা দিচ্ছিল সিবিআই।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, খুনের ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ ওরফে মনুকে শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপরই সিবিআই মনুর উত্তরপ্রদেশের বাড়িতে একাধিকবার তল্লাশি চালায় এবং তার পরিবারের সদস্যদের লাগাতার জেরা করতে শুরু করে। চতুর্দিক থেকে ঘেরাটোপ তৈরি হওয়ায় এবং পুলিশের তাড়া খেয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় এই কুখ্যাত অপরাধী। যদিও মনুর স্ত্রীর দাবি, তার স্বামীকে এই মামলায় সম্পূর্ণ মিথ্যে ফাঁসানো হয়েছে এবং তারা আদালতের ওপর পূর্ণ ভরসা রাখছেন।
গত ৬ মে বুধবার রাতে কলকাতার নিজাম প্যালেস থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে মধ্যমগ্রামে অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের এক ঝটিকা অপারেশনে অত্যন্ত কাছ থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এই ঘটনায় চন্দ্রনাথের গাড়িচালকও গুরুতর জখম হন। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে রেইকি করার পর ভিনরাজ্যের এই পেশাদার খুনিকে হায়ার করা হয়েছিল। মনুকে জেরা করে এই খুনের আসল মাস্টারমাইন্ডের হদিশ মিলবে বলে আশা করছে সিবিআই।


