রাজধানী দিল্লিতে চলতে থাকা ছাত্র বিক্ষোভ এবং আন্দোলনের জেরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ কর্মসূচির পাশাপাশি সংসদের চলতি অধিবেশনকে সামনে রেখে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই নির্দেশ জারি করে। এরপর দ্রুত পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিমানযোগে ওই বাহিনীর সদস্যদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সরকারি সূত্রের খবর, রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়েছে প্রশাসনকে। বিশেষ করে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলার সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই কারণেই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, জানিয়েছে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, প্রতিটি সিআরপিএফ কোম্পানিতে প্রায় ১০০ জন করে জওয়ান থাকেন। সেই হিসাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী এখন দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।
আধিকারিকদের মতে, অতীতে বেশ কয়েকটি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাই এবার আগেভাগেই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। শুধু সিআরপিএফ নয়, তাদের বিশেষ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)-এর সদস্যদেরও দায়িত্বে রাখা হয়েছে। রাজধানীর সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। সেই ইস্যুতেই মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
বিক্ষোভস্থলে পরিস্থিতি কিছু সময়ের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ধর্না তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এরপর রাহুল গান্ধী মাটিতে বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যান। পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। একইভাবে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকেও আটক করে একটি বাসে তোলা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে সোমবারও সংসদ অভিযানের সময় রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও সামনে আসে। সেই অভিজ্ঞতার পরই প্রশাসন আরও সতর্ক হয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ছাত্র সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতা মন্ত্রীরা ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, কোন কারণে কেন্দ্র সরকার ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর বল প্রয়োগ করছে?
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজধানীতে শান্তি বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাই দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।বর্তমানে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, সংসদ চত্বর, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশ এবং অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।


