চেন্নাই থেকে পাওয়া এক অনন্য বার্তা আজ আবারও দেশবাসীর মনে আশার আলো জাগাল। যখন নানা জায়গায় ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের কথা শোনা যাচ্ছে, তখন দক্ষিণের এই শহর দেখাল ভ্রাতৃত্ব আর সহমর্মিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চেন্নাইয়ের মাইলাপুর এলাকায় অবস্থিত সুফিদার মন্দিরে গত প্রায় ৪০ বছর ধরে রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে এখানে সবাই একসঙ্গে কাজ করেন। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রান্না করেন, খাবার প্যাকেট তৈরি করেন এবং তা পৌঁছে দেন ঐতিহাসিক ওয়ালাজাহ বড় মসজিদে।
এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল আশির দশকের শুরুতে। এর নেপথ্যে ছিলেন রতনচাঁদ সাহিব, যিনি ‘দাদাজি’ নামে পরিচিত ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি ভারতে আসেন এবং মানবতার শিক্ষা নিয়ে এক আধ্যাত্মিক কেন্দ্র গড়ে তোলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল—মানুষের উপরে আর কোনও পরিচয় নেই। সেই আদর্শ মেনেই তৈরি হয় সুফিদার ট্রাস্ট এবং মাইলাপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় এই মিলনস্থল, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সম্মান পান।
প্রতিদিন ভোর থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা বাজার ও রান্নার প্রস্তুতি শুরু করেন। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে মন্দিরের রান্নাঘর ব্যস্ত হয়ে ওঠে। বিরিয়ানি, পোলাও, ভাত, সবজি, মিষ্টি, খেজুর, ফল এবং জাফরান মিশ্রিত দুধ, বিভিন্ন পদ যত্ন করে তৈরি করা হয়। বিকেলের দিকে প্রায় এক হাজারেরও বেশি রোজাদারের জন্য খাবার প্যাকেট করে গাড়িতে তোলা হয় এবং মসজিদে পৌঁছে দেওয়া হয়। অনেক সময় স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেরাই উপস্থিত থেকে ইফতার পরিবেশন করেন। স্থানীয় মুসলিমরা এই প্রয়াসকে সবসময় সমর্থন জানিয়েছে। আরকটের প্রিন্স নবাব মহম্মদ আবদুল আলি এই উদ্যোগকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদর্শন বলে প্রশংসা করেছিলেন। দাদাজির প্রয়াণের পরও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে এই প্রথা আজও চলছে। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও এই উদ্যোগ নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে, এ দেশে এখনও মিলেমিশে থাকার সংস্কৃতি জীবন্ত।


