পাকিস্তানের জঙ্গি হামলার ঘাটিগুলিতে ভারতের আক্রমণের সাফল্য দেশবাসীর সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব ও সাহসিকতার জন্য এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁকে বিশিষ্ট সেবা পদকে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত নয়টি জঙ্গিঘাঁটিতে সফলভাবে আঘাত হানে ভারতীয় সেনা। এই অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কীভাবে জঙ্গিঘাঁটি চিহ্নিত করা হয় এবং কীভাবে হামলা চালানো হয়, তা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন তাঁরা। এর মাধ্যমে নারীশক্তির ভূমিকা যেমন সামনে আসে, তেমনই দেশের ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তাও দেয় সেনাবাহিনী। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই কর্নেল সোফিয়া কুরেশি দেশ-বিদেশে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ভারতীয় সেনার Corps of Signals বিভাগে কর্মরত এই অফিসার এর আগেও বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের প্রথম মহিলা অফিসার হিসেবে বহুদেশীয় সামরিক মহড়ায় নেতৃত্ব দেন এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের পিসকিপিং অপারেশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তবে এই হতভাগ্য দেশে সোফিয়া কুরেশির মতো বীরাঙ্গনা মহিলাকে সহ্য করতে হয়েছে চূড়ান্ত অপমান। তার ধর্মকে উল্লেখ করে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ মূলক আক্রমণ করেছে বিজেপির নেতা মন্ত্রীদের একাংশ। শুধু তাই নয়, বিজেপি মন্ত্রী বিজয় শাহকে একটি সভা মঞ্চ থেকে বলতে শোনা যায়, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ‘ওদের বোন’। বিজেপি মন্ত্রির এমন কুরুচিকর মন্তব্যের পর তোলপাড় হয়েছিল রাজনৈতিক প্রাঙ্গণ। কংগ্রেস সহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বিজেপি মন্ত্রী বিজয় শাহর পদত্যাগ দাবি করে সোচ্চার হয়েছিল। বিশিষ্ট সেবা পদক প্রাপ্তি, কর্নেল সোফিয়া কুরেশির যোগ্য সন্মান বলেই মনে করছেন অনেকে। অপরদিকে এও প্রশ্ন উঠছে, চূড়ান্ত চাপে পড়েই অবশেষে বিজেপি সরকার কি কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে বাধ্য হল?


