তেলঙ্গানার পঞ্চায়েত নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল কংগ্রেস। গ্রাম স্তরের এই ভোটে রাজ্যজুড়ে কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীদের দাপট স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। দুই দফায় হওয়া ভোটের ফল মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, মোট আসনের অর্ধেকেরও বেশি জায়গায় জয় পেয়েছে কংগ্রেস। এর ফলে রাজ্যের রাজনীতিতে আবারও শক্ত অবস্থান তৈরি করল শাসক দল।
নির্বাচনের প্রথম পর্বে রাজ্যের হাজার হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য ভোট হয়। সেখানে কংগ্রেস বিপুল সংখ্যক আসন দখল করে নেয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দল ভারত রাষ্ট্র সমিতি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ব্যবধান ছিল অনেকটাই। বিজেপি এই দফায় তুলনামূলক ভাবে খুবই পিছিয়ে পড়ে বলে জানা যায়।
দ্বিতীয় দফায় সরপঞ্চ এবং পঞ্চায়েত ওয়ার্ডগুলির জন্য ভোটগ্রহণ হয়। এখানেও কংগ্রেস এগিয়ে থাকে। সরপঞ্চ পদে কংগ্রেসের প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি জায়গায় জয়ী হয়েছেন। বিআরএস কিছু আসনে লড়াইয়ে থাকলেও বিজেপির ফল আশানুরূপ হয়নি। এখনও কিছু ওয়ার্ডের ফল ঘোষণা বাকি থাকলেও, প্রাথমিক প্রবণতায় কংগ্রেসের এগিয়ে থাকা স্পষ্ট। এই জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষে রায় দিয়েছেন। কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তারই প্রতিফলন এই ফল বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস সরকার গঠনের পর থেকেই বিআরএস ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছিল। লোকসভা ভোটে কংগ্রেস ও বিজেপি সমান সংখ্যক আসন পেলেও, বিআরএস সেখানে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তারা আবার বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের জায়গা কিছুটা মজবুত করল। সব মিলিয়ে, তেলঙ্গানার গ্রামীণ রাজনীতিতে কংগ্রেসের এই জয় আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতির দিকনির্দেশক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


