কোচবিহার জেলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনা রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের ছেলে দীপঙ্কর রায় এবং তার গাড়ির চালক উত্তম গুপ্তকে গ্রেফতার করেছে।
আক্রান্ত ব্যক্তি রাজু দে কোচবিহার ২নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এবং জনস্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবে কাজ করেন। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১ টার দিকে ঝিনাইদাঙ্গা এলাকায় অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি তার উপর গুলি চালায়। গুলিটি তার ডান কাঁধে লাগে। তাকে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে যে হামলার সময় ব্যবহৃত একটি কালো গাড়ি ঘটনাস্থলের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। পরে গাড়িটি বিধায়ক সুকুমার রায়ের বলে শনাক্ত করা হয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “এই গাড়িটি বিধায়কের। আমরা বিজেপি নেতার ছেলে এবং গাড়ির চালককে গ্রেফতার করেছি। কিছু সাক্ষী আমাদের জানিয়েছে যে ঘটনার সময় তারা দীপঙ্করকে গাড়িতে দেখেছে। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।” এছাড়াও ঘটনাস্থলের কাছের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর কোচবিহারে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা রাজু দে-র সমর্থনে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় এবং মিছিল করে। সামাজিক মাধ্যমে তৃণমুল দল এক বিবৃতিতে বলেছে, “কোচবিহার II পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য আধিকারিক রাজু দে-র উপর এই হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। বিজেপির সমর্থনে থাকা সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা তাদের বিধায়কের গাড়ি ব্যবহার করে একজন জনপ্রতিনিধির উপর প্রাণঘাতী আক্রমণ চালিয়েছে। এর পরেও বিজেপি আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলার সাহস দেখাচ্ছে?”
অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায় এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি কখনও এই ধরনের অপরাধ বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত হয় না। এই ঘটনার পিছনে কারা আছে আমি জানি না, তবে টিএমসি এটাকে আমাদের বদনাম করার জন্য ব্যবহার করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে কোচবিহারে টিএমসির প্রভাব খুবই কম। তাই তারা এই সুযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”
রাজু দে হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিধায়ক আর তার ছেলে আমাদের অনেক কর্মীর উপর হামলা করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কয়েক মাস আগে চকচকা এলাকায় বিধায়কের নিষ্ক্রিয়তার জন্য স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছিল। তখনও তিনি এই একই গাড়িতে চলাফেরা করছিলেন। গতকাল আমার উপর হামলার সময়ও গাড়িটা দেখা গেছে।”
টিএমসি নেতা ফিরহাদ হাকিম এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বিজেপি তাদের আগ্রাসী রাজনীতির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। তারা এখানে গুজরাটের মডেল চালু করতে চায়, যাতে বিরোধী দলের কর্মীদের ক্ষতি করা যায়।”
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে তদন্ত এখনও চলছে। চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনা আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড় তুলছে।


