বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই জোট রাজনীতি নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সিপিআই(এম) ও কংগ্রেসের মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম গত কয়েক দিন ধরে কংগ্রেসকে জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তার বক্তব্য, বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই শক্তিশালী করতে বিরোধীদের একসঙ্গে এগোনো জরুরি।
তবে কংগ্রেস জোট মানতে রাজি নয়। দলের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, জোট হবে কি না, এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেস নিজেই নেবে এবং উপযুক্ত সময়েই তা ঘোষণা করা হবে। কংগ্রেসের দাবি, তারা কোনও আঞ্চলিক দলের নির্দেশে চলে না এবং দলীয় কাঠামোর মধ্যেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য সমাজমাধ্যমের পোস্টে লিখেছেন, “কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত কংগ্রেস নেবে। অন্য কেউ নয়। কংগ্রেস মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। আমরা আঞ্চলিক দল নই। জেলা, প্রদেশ, দিল্লি, কেরল নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামানো বন্ধ করুন। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের জোটবদ্ধ লড়াই রক্ত ঝরানো ইতিহাসে লেখা আছে। দেওয়াল লিখন কিংবা পোস্টারে নয়। আমাদের দল প্রকৃত অর্থেই অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। থিসিস, অ্যান্টিথিসিস থেকে সিন্থেসিস – এটা আমরা বাস্তবিক অর্থে প্রয়োগ করে দেখাই।”
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, আদৌ কি এবার সিপিআই(এম)-কংগ্রেস জোট হচ্ছে? কারণ ভোটের আর খুব বেশি সময় বাকি নেই, অথচ কংগ্রেস এখনও স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি। সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, জোট না করতে চাইলে তাও পরিষ্কার করে বলা উচিত, যাতে বিভ্রান্তি না থাকে।
সিপিআই(এম) অবশ্য জানিয়েছে, তারা কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতায় আগ্রহী এবং বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী লড়াইয়ে কংগ্রেসকে পাশে পেতে চায়। কিন্তু কংগ্রেস এখনও সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন মুসলিম রাজনৈতিক দল এই পরিস্থিতিতে বামেদের দিকে এগিয়ে এসেছে। আইএসএফ সহ একাধিক মুসলিম দল সিপিআই(এম)-এর সঙ্গে জোটে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সিপিআই(এম)।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মালদার সভা থেকে সেলিম বলেছিলেন, “যে মই দিয়ে তৃণমূল রাইটার্স বিল্ডিংয়ে উঠেছিল, সেই মইকেই লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। তার পরেও কংগ্রেসের শিক্ষা হয়নি। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা থেকে দিল্লির নেতা, সবাই ভাবছেন এদিকে গেলে লাভ, না ওদিকে গেলে লাভ।” বাম শিবিরের বক্তব্য, যারা সাম্প্রদায়িকতা ও শাসক দলের নীতির বিরোধিতা করতে চায়, তাদের সবাইকে একসঙ্গে আসতে হবে। কংগ্রেসের দ্বিধার বিপরীতে আইএসএফ ও অন্যান্য মুসলিম দলগুলির ইতিবাচক মনোভাব বামেদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


