ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে নদীভাঙন, ওবিসি সংরক্ষণ ও SIR প্রকল্প—রাজ্যের একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রবিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দলের রাজ্য কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “রাজ্যে মানুষকে ভয় দেখিয়ে, বিভ্রান্ত করে, আসল সমস্যা থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে দুই শাসকদল। তাই এবার জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথে নামবে সিপিআইএম।”
সেলিমের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রশাসনিক পর্যায়ে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। “প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, আবার মৃত বা ভুয়ো ভোটারের নাম রয়ে যাচ্ছে তালিকায়। SIR-এর নামে ভয় দেখানো হচ্ছে—এগুলো চলতে পারে না,” বলেন সিপিআইএম নেতা। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মতো সাংবিধানিক সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
নদীভাঙন সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে সেলিম বলেন, “দশকের পর দশক ধরে মানুষ ঘর হারাচ্ছে, জমি নদীতে ভাসছে, অথচ সরকার কেবল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বাস্তব কোনও উদ্যোগ নেই।” একইভাবে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল সরকার সংবিধান মানছে না। জাতি–ধর্মের নামে বিভাজন ঘটিয়ে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি করছে। বিজেপিও একই খেলা খেলছে, ধর্মের নামে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে।”
এই সব ইস্যুকেই সামনে রেখে সেলিম ঘোষণা করেন, রাজ্যজুড়ে শুরু হবে “বাংলা বাঁচাও যাত্রা”। আলিমুদ্দিন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই যাত্রা বিভিন্ন জেলা ও ব্লক ঘুরে মানুষের সমস্যাগুলি সরাসরি তুলে ধরবে। শোনা যাচ্ছে কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হবে রাজ্যের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি জনমানসে পৌঁছে দেওয়া।
সেলিম বলেন, “বাংলা আজ দুর্নীতি, ভয় ও প্রতারণার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। মানুষকে বোঝানো হচ্ছে উন্নয়নের গল্প, কিন্তু বাস্তবে সবকিছুই ভেঙে পড়ছে। এবার মানুষই বলবে—যথেষ্ট হয়েছে, বাংলা বাঁচাও।”
দলীয় সূত্রের খবর, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে এই যাত্রা। নির্বাচনের পূর্বে যাত্রা কর্মসূচী নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনগর্জন যাত্রা, কংগ্রেসের মধ্যমণি রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা আর বর্তমান বিহার নির্বাচনের পূর্বে ভোটার অধিকার যাত্রা পূর্বেই দেখা গেছে। এতে অবশ্য ভোটবাক্সে বামেদের কোনও লাভ হবে কিনা তা সময়ই বলবে।


